• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মে, ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু,কৃষি শ্রমিকে সংকটে মহাবিপাকে গৃহস্থরা


FavIcon
অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) :
প্রকাশিত: মে ৯, ২০২২, ০২:৪৮ পিএম
বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু,কৃষি শ্রমিকে সংকটে মহাবিপাকে গৃহস্থরা
বোরো ধান কাটা-মাড়াই শুরু,কৃষি শ্রমিকে সংকটে মহাবিপাকে গৃহস্থরা

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই। তবে শুরুতেই দেখা দিয়েছে শ্রমিক সঙ্কট। অতিরিক্ত মজুরী আর ধান দিয়েও কাটা ও মাড়াইয়ের শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন চাষিরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এখনও ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়নি। ধান পুরোপুরি কাটা শুরু হলে শ্রমিক সঙ্কট থাকবে না।

এদিকে ঈদের দু’দিন আগে সন্ধ্যায় ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর ও নবাবগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়োহাওয়া ও বৃষ্টিতে ওই দুই উপজেলার পাশাপাশি ঝড়োহাওয়ার প্রভাবে ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষেতের আধাপাকা ধানের গাছ জমিতে শুয়ে গেছে। 

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, উপজেলায় এ বছর ১৪ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। কিছু কিছু জমির ধান কাটা শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ ধরেই। তবে ফলন কেমন হচ্ছে তা এখনও নিশ্চিত নয় কৃষি বিভাগ। 

ফুলবাড়ী উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের নূরমামুদপুর এলাকার ক্ষেতে কাটা ধান একাই আঁটি বাঁধছিলেন হেমন্ত চন্দ্র রায় (৫২) নামের এক কৃষক। হেমন্ত চন্দ্র রায় জানান, এবার ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আপাতত নিজের এক বিঘা জমির ধান বাড়ীর লোকজনকে নিয়ে নিজেরাই কাটছেন। ধান মাড়াইয়ের কাজটিও তাদের করতে হবে। 

শ্রমিক না পেয়ে একই ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর এলাকার কৃষক মিলন চন্দ্র রায় বলেন, এ অঞ্চলে ধান লাগানো থেকে কাটা-মাড়াইয়ের বেশিরভাগ শ্রমিকই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর। কিন্তু এদের অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েক বছর ধরে রংপুর, কুঁড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি শ্রমিকেরা দলে দলে এসে ফুলবাড়ী উপজেলার মাঠে মাঠে ধান কাটেন। এবার এখন পর্যন্ত ওইসব শ্রমিকেরা আসেননি। 

উপজেলার বেতদীঘি ইউনিয়নের চকমথুরা গ্রামের কপুর রাম হাঁসদা ও রামবাবু টুডু বলেন, এ বছর ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজে মজুরি একটু বেশি নিচ্ছেন তারা। বর্তমানে নৃ-গোষ্ঠীর একজন নারী   কৃষি শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা দিন এবং পুরুষ এলাকা ভেদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। তবে নারী শ্রমিকরা শুধু ক্ষেতের ধান কেটে আটি বেধেঁ দেবেন। আর পুরুষ শ্রমিকদের ক্ষেতের ধান কাটাই-মাড়াইসহ গৃহস্থের বাড়ী পর্যন্ত ধান পৌঁেছ দিতে হয় বলেই তাদের মুজুরি বেশি। 
]
ফুলবাড়ী পৌর এলাকার চকচকা গ্রামের আদর্শ কৃষক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, গত বছর এক বিঘা জমির ধান কাটাই এবং বাড়ীতে পৌঁছানোর খরচ পড়েছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু এ বছর একই কাজের জন্য কৃষি শ্রমিকরা দাবি করছেন সাড়ে ৬ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। এ কারণে এখন পর্যন্ত ক্ষেতের ধান কাটা শুরু করা যায়নি।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের ঘুঘুজান গ্রামের গৃ-গোষ্ঠীর নারী কৃষি শ্রমিক শিল্পী মুর্মু বলেন, প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটতে যাচ্ছেন। মজুরি পাচ্ছেন এলাকা ভেদে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে বাড়ী থেকে টেম্পো, অটো চার্জার  ও রিকশাভ্যানে যাতায়াত করতে খরচ পড়ে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। তবে গত বছর মজুরি ছিল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।   

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, সবেমাত্র ধান কাটা শুরু হয়েছে। এখনই শ্রমিক সঙ্কট বলা যাবে না। কারণ, এ অঞ্চলের ধান কাটেন রংপুর, কুঁড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এলাকার শ্রমিকরা। সব জমির ধান পাকলে ওই শ্রমিকেরা আসবেন। তখন সঙ্কট বোঝা যাবে না। 
 



Side banner