• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১

হবিগঞ্জে সুতাং নদী রক্ষায় হাইকোর্টের রুল


FavIcon
মোঃ রহমত আলী, হবিগঞ্জঃ
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১, ০৬:০০ পিএম
হবিগঞ্জে সুতাং নদী রক্ষায় হাইকোর্টের রুল
ছবি: হবিগঞ্জে সুতাং নদী রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

দূষণ, অবৈধ ও অননুমোদিত কার্যক্রম থেকে হবিগঞ্জ জেলার সদর, শায়েস্তাগঞ্জ, লাখাই এবং চুনারুঘাট উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সুতাং নদী ও নদীর সাথে সংযুক্ত শৈলজুড়া খালকে রক্ষায় হাইকোর্ট রোল জারি করেছেন
(১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১) হাইকোর্ট বিভাগ বিবাদীগণের (বিবাদী নং ১০-২২)  ব্যর্থতাকে কেন সংবিধানবিরোধী, বেআইনী, আইনগত কতৃর্ত্ব বর্হিভূত এবং জনস্বার্থ বিরোধী ঘোষণা করা হবেনা এবং  সুতাং নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫; পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ ও অন্যান্য প্রযোজ্য আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে বিবাদীগণের (বিবাদী নং ১০-২২) অবৈধ ও অননুমোদিত কার্যক্রম ফলে সংঘটিত পানি, বায়ু, মাটি ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রনের নির্দেশ প্রদান করা হবেনা তা জানতে চেয়ে বিবাদীগণের উপর রুল জারি করেছেন আদালত। সেইসাথে, বিবাদীগণ কতৃর্ক (বিবাদী নং ১০-২২) পরিচালিত ইন্ডাস্ট্রিতে ইটিপি এবং অন্যান্য দূষণ নিরোধক যন্ত্র নিরবিচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫; পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের পরিপূর্ণ অনুসরণ না করা পর্যন্ত বিবাদীগণ (বিবাদী নং ১০-২২) কতর্ৃক পরিচালিত ইন্ডাস্ট্রিগুলোর পরিবেশগত ছাড়পত্র স্থগিত রাখতে এবং ২ মাস অন্তর সুতাং নদী ও নদীর সাথে সংযুক্ত শৈলজুড়া খালের পানি পরীক্ষা ও ৩ মাস অন্তর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবে  আদালত আগামী ২ (দুই) মাসের  মধ্যে ৩ নং (চেয়ারম্যান, নদী রক্ষা কমিশন), ৪ নং (মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর) ও ৯ নং (পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট ভিাগীয় কার্যালয়) বিবাদীগণকে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। 


বিচারপতি মোঃ মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি  মোঃ কামরুল হোসেন মোল্লা এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার (নং- ৭৭৬২/২০২১) প্রাথমিক শুনানী অন্তে এ রুল জারি করেন। 


উল্লেখ্য, ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুতাং নদী হবিগঞ্জ সদর, শায়েস্তাগঞ্জ, লাখাই এবং চুনারুঘাট উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত। একসময় এ নদী এলাকাবাসীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বোরো মৌসুমে এ নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। সনাতন ধর্মের লোকজন এক সময় এ নদীতে পুণ্যস্নান করতেন। দেশের অন্যান্য নদীর মতো এ নদীর অবস্থাও আজ সংকটাপন্ন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ নদী দূষণের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার অলিপুর নামক স্থানে গড়ে উঠা শিল্পকারখানার বজর্য নদীটির সাথে সংযোগ স্থাপনকারী শৈলজুড়া খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে সুতাং নদী দূষণ করছে। অব্যাহত শিল্পবজের্যর দূষণে নদীটির পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে, পানি থেকে ছড়াচ্ছে দূর্গন্ধ, কষ্টকর হয়ে পড়েছে নদীর পাড় দিয়ে চলাচল এবং দূষণের কারণে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়েছে নদীটি। অপরদিকে এ নদীর পানি দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় এ নদীর অববাহিকায় বিদ্যমান বিস্তীর্ণ হাওরের বোরো ফসলের সেচকাজে ব্যবহার করতে পারছেন না কৃষকেরা । নদীর পানি ব্যবহারকারীরা পড়েছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ও আক্রান্ত হচ্ছে চর্মরোগসহ নানা অসুখে এবং মারা যাচ্ছে হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু। এমতাবস্থায় দূষণ থেকে সুতাং নদী রক্ষায় বেলা উল্লেখিত জনস্বার্থমূলক মামলাটি দায়ের করে।
বেলা‘র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

মামলার বিবাদীগণ- ১। সচিব, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ২। সচিব, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; ৩। চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন; ৪। মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর; ৫। মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড; ৬।  নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ শাখা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি); ৭। জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ; ৮। পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ; ৯। পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর (সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়), ১০। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রাণ ও আর এফ এল গ্রুপ; ১১। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্কয়ার ডেনিম লিমিটেড; ১২। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পাইওনিয়ার ডেনিম লিমিটেড; ১৩। ব্যবস্থাপনা পরিচালক , সিলভান এগ্রিকালচার লিমিটেড; ১৪। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্টার পোরসেলিন লিমিটেড; ১৫। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হবিগঞ্জ এগ্রো লিমিটেড; ১৬। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, হবিগঞ্জ টেক্সটাইল লিমিটেড; ১৭। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রংপুর মেটাল ইন্ডস্ট্রিজ লিমিটেড; ১৮। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মেইজ এডভান্স এগ্রো রিফাইনারিস (মার) লিমিটেড; ১৯।    ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সায়হামনীট কম্পোজিট লিমিটেড;  ২০। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সান বেসিক কেমিক্যাল লিমিটেড; ২১। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্লোরী এগ্রো লিমিটেড; এবং ২২। ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাসা কেমিক্যাল লিমিটেড। 


Side banner
Link copied!