ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলা মক ভোটিং পরিদর্শন শেষ সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এ সময় সিইসি বলেন, গণভোট নিয়ে সেইভাবে প্রচারণা শুরুই হয়নি এখনো। সরকার এবং ইসি একসঙ্গে মিলে ব্যাপক প্রচারণা চালাবে।
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কখনো ভালো ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র্যাব, সেনাবাহিনী অ্যাকটিভলি কাজ করছে। আগেও চুরি-ছিনতাই হয়েছে।
কিন্তু এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। পরিস্থিতি এখনকার চেয়ে আরো ভালো হবে।
মক ভোটিং নিয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, আইডিয়ার পরিস্থিতিতে নির্বাচন করতে গেলে কেমন পরিবেশ রাখা দরকার তার সার্বিক বিষয়ে দেখতে চেয়েছে ইসি। গত পনেরো বছরে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া দেখেনি জনগণ।
সেটা দেখাতে এবং ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া জানাতে এই মক ভোটিংয়ের আয়োজন। একই সঙ্গে দুই ব্যালটে কত সময় লাগছে তা-ও দেখা হচ্ছে।
এ সময় তিনি বলেন, ৪২ হাজার ৫০০টির বেশি পোলিং স্টেশন যথেষ্ট কি না বা অতিরিক্ত বুথ ও স্টেশন প্রয়োজন হবে কি না তা আজকের রিয়েল-টাইম মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে। নতুন বুথ মানে অতিরিক্ত লোকবল, সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা— এসবই বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র ভোটের অনুশীলন নয়, পোলিং সেন্টারের সামগ্রিক পরিবেশ, ভোটারদের কিউ, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসারদের অবস্থান, সাংবাদিকদের ভূমিকা— সবকিছু বাস্তবে কেমন হবে তা যাচাই করাই এ অনুশীলনের মূল লক্ষ্য।
সিইসি বলেন, গত ১৫ বছরে বহু নতুন ভোটার রয়েছে যারা কখনো প্রকৃত ভোটগ্রহণের অভিজ্ঞতা পায়নি। তাই এই অনুশীলন তাদের জন্য বাস্তব ধারণা তৈরি করবে।
ভোটারদের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে অভিযোগ করলে তিনি বলেন, এটিও মূল্যায়নের অংশ। কোথায় ঘাটতি আছে, কোথায় পরিকল্পনায় ভুল ছিল সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন করা হবে। মানুষের কষ্ট বাড়ানো নয়, বরং সময় কমিয়ে সুবিধা নিশ্চিত করাই কমিশনের লক্ষ্য। খরচ কমানোই প্রধান উদ্দেশ্য নয়, প্রয়োজনে বুথ বাড়িয়ে সময় কমানো হবে।
আপনার মতামত লিখুন :