শরীয়তপুর সদর উপজেলায় শৌলপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সহ তার লোকজন নিয়ে বিএনপিতে যোগদান করাকে কেন্দ্র করে রাতে আধারে ৮টিবাড়ী ভাংচুর লোটপাট ও ৩ টি বাড়ীতে পেট্রোল ঢেলে অগ্নি সংযোগ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিএনপির অপর একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা প্রায় ৫ শতাধিক বোমার বিস্ফোরন ঘটিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ সময় তারা নগদ টাকা, স্বর্নালংকারসহ প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট পাট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে। ৫ টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার রাত ১১ টায় শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চরগয়ঘর গ্রামে।
শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর শ্যালক মোঃ তারেক মিয়া ও চিকন্দি পুলিশ ফাড়ি সুত্রে জানা যায়,গত ১৭ জানুয়ারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিল শৌলপাড়া স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সেই মিলাদ মাহফিলে শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল মান্নান খান ভাসানীসহ তার ২০/২৫ নেতা কর্মী নিয়ে বি এন পিতে যোগ দেন। ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক সরদার এ কে এম নাছির উদ্দিন, জেলা বি এনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শরীয়তপুর -১ আসনের বি এনপির মনোনিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইদ আহাম্মেদ আসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শৌলপাড়া এলাকার বিএনপির দুটি গ্রুপের রয়েছে, একটি গ্রুপের মধ্যে এ্যাড.হেলাল উদ্দিন আকনের সমর্থক ও অপর গ্রুপের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমান খানের সমর্থকরা ।
আতিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে ইউপি চেয়্যারম্যান বিএনপিতে যোগদান করায় অপর গ্রুপ ক্ষিপ্ত হয়। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল রাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, বোমা, পেট্রুল নিয়ে বর্তমান শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আব্দুল মান্নান খান ভাসানী,মজিবুর রহমান খান, সেলিম খান, শুক্কুর বেপারী, ফজন বেপারী, জসিম বেপারী ,সিরাজ খান, আরশেদ বেপারী বাড়ীতে ভাংচুর ওলুটপাট করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা পাচ শতাধিক বোমার বিস্ফোরন ঘটায়। তার পর তারা ইউনুস সিকার, আবুল হোসেন খান ও ইদ্রিস খানের বাড়ীতে পেট্রুল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। আজ সকালে চিকন্দি ফাড়ি পুলিশ গিয়ে ৫ টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। এ ঘটনার সংগে জড়িত থাকার অভিযোগে যৌথ বাহিনী আটক করে।
শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর ভাতিজা মাসুদুর রহমান খান বলেন, গতকাল রাতে হেলাল আকনের লোকজন আমাদের বাড়ী ঘরে বৃষ্টির মত বোমা বর্ষন করে। চিন্দি ফাড়ির পুলিশ তখন উপস্থিত ছিল । তাদের বোমা হামলার কারনে চিকন্দি ফাড়ির পুলিশ পালিয়ে যায়। এ সময তারা ৫ শতাধিক বোমার বিস্পোরন ঘটায।
শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান ভাসানীর ভাতিজি শিক্ষকা সনিয়া বেগম বলেন, আমার চাকা গত দু দিন ধরে দেশের বাইরে দুবাইতে অবস্থান করছেন। ৫০ থেকে ৬০ জন লোক আইসা বোমাবাজি করছে। ১২/১৩টা ঘরবাড়ী এমন ভাবে কুপিয়েছে। তারা রান্না করে খাবে, সেই ব্যবস্থা নেই। আমার চাচার ঘওে ৪০ ভরি স্বনালংকারসহ নগদ ৫লাখ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।
মালেশিয়া প্রাবাসী ইদ্রিস খান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকি। কখনো রাজনীতে করি নাই। সম্প্রতি দেশে এসে জানুয়ারী মাসের ১৭ তারিখে আমি বিএনপিতে যোগদান করি। এ যোগ দেয়ায় পর এ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন আকন বাধাগ্রস্থ করে। অনেক মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। ঐ যোগদানকে কেন্দ্র করে ১১ বাড়ীতে হামলা করে। আমার বাড়ীসহ ৩টি বাড়ী প্রেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হেলাল উদ্দিন আকনের লোক জন।
এ্যাভোকেট হেলাল আকন বলেন ,মুলত শৌল পাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আলী মাদবর ও সাধারন সম্পাদক মামুন আকন গ্রæপের বিরুদের কারনে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সাথে আমি কোন ভাবেই জড়িত না । আমার আত্মীয় মারা যাওয়া আমি গোপালগঞ্জে আছি।
বোমার শব্দ শোনে পালিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে চিকন্দি পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ গোলাম রসুল বলেন, সন্ত্রাসীরা চর গয়ঘর এরাকায় ৭/৮ টি বাড়ী ভাংচুর ও ৩ টি বাড়ীতে অগ্নি সংযোগ করেছে। এ ঘটনায় আমরা ৪ জন কে আটক করেছি। ৫ টি ককটেল উদ্ধার করেছি। ঘটনাটি তদন্ত করছি।
আপনার মতামত লিখুন :