• ঢাকা
  • শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮

শরীয়তপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা স্বামীর


FavIcon
নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুর :
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২১, ০৪:৫৭ পিএম
শরীয়তপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা স্বামীর
শরীয়তপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা

শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার জপসা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মীর কান্দা পাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার খার বাড়িতে সেলিনা আক্তার (২২) কে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে সেলিনা আক্তারের স্বামী হানিফ খান (২৫) সহ তার পরিবার এমন অভিযোগ করলেন সেলিনা আক্তার এর বাবা আব্দুল গনি বেপারী।

গত ৫ ডিসেম্বর ২০২১ সাড়ে তিনটার দিকে জপসা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ নুর জামাল মাদবর মুঠোফোনের মাধ্যমে মেয়ের বাবা আব্দুল গনি বেপারীকে বলেন আপনার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।আব্দুল গনি বেপারী মেয়ের মৃত্যুর কথা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে চলে আসে এবং ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পায় তার মেয়ে সেলিনা আক্তার এর মৃতদেহ শশুর বাড়ির বসত ঘরের খাটের উপর রাখা  হয়েছে। তখন ঐ  বাড়িতে পুলিশ সাংবাদিক দেখতে পায় আব্দুল গনি ব্যাপারী।মৃত সেলিনা আক্তার এর বাবা জামাই হানিফ খা, মেয়ের শাশুড়ি ননদ দের খোঁজ করে তাদেরকে ওই বাড়িতে দেখতে পায়না।  পুলিশের ভয়ে মৃতদেহ রেখে বাড়ি থেকে তাহারা পালিয়ে যায়। নড়িয়া থানা পুলিশ সেলিনা আক্তার এর মৃতদেহ সুরতহাল করে ময়না তদন্ত রিপোর্টের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠান।

সরোজমিন ঘুরে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে সেলিনা আক্তার (২২)  ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সিড্যা গ্রামের আব্দুল গনি বেপারীর মেজো মেয়ে। শৈশব কাল থেকেই সেলিনা আক্তার ছিল অত্যন্ত মেধাবী শান্তশিষ্ট। সেলিনা আক্তার ২০২০ সালের ডামুড্ডা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ঘাতক স্বামী হানিফ খা ২০২০ সালে ডামুড্ডা উপজেলার সিড্যা গ্রামে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সময় ঘটনা ক্রমে ভেকু চালক হানিফ খার  সাথে সেলিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।তাদের এই প্রেমের  সম্পর্ক কে সেলিনার পিতা মাতা মেনে নিতে না পারার কারণে ঘাতক স্বামী হানিফ খা সেলিনা কে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের এই পালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেলিনার বাবা আব্দুল গনি বেপারী নড়িয়া থানায় হানিফ খার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে।পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে জপসা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরজামাল মাদবরের মধ্যস্থতায় তাদের এই প্রেম কে পারিবারিকভাবে মেনে নেয় সেলিনার বাবা-মা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে সেলিনার বিয়ের এক বছর পর ২০২১ সালে কলেজ থেকে আইএ পাশ করে। বিয়ের পর থেকেই ঘাতক স্বামী হানিফ খান  বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে সেলিনা আক্তার কে মারধর ও নির্যাতন করতো। ঘাতক স্বামী হানিফ খা বিদেশ যাওয়ার জন্য স্ত্রী সেলিনা কে বলে তোর বাপের বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকা এনে দে। সেলিনা ঘাতক স্বামীকে বলে বাবা-মার কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা আনতে পারব না। একথা বলতেই চার তারিখ রাত্রে স্বামী হানিফ খা সেলিনার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। পরের দিন ৫ডিসেম্বর সকালবেলা সেলিনার বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা থাকলেও আর যাওয়া হলো না, প্রাণ দিতে হলো ঘাতক স্বামীর হাতে। মৃত সেলিনার রেখে যাওয়া সাত মাসের সাফরিন  নামের এক কন্যা সন্তান রয়েছে।পৃথিবী কি বোঝার আগেই  সাতমাসের অবুঝ শিশু সাফরিনা  কে হতে হল মা হারা এতিম। ঘাতক হানিফ খার এলাকা ঘুরে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে হানিফ খা একজন ভেকুর ড্রাইভার। মাদক এবং জুয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। হানিফ নেশা করে মাঝেমধ্যে স্ত্রী সেলিনার সাথে মারপিট করতো।

মৃত সেলিনার বাবা আব্দুল গনি ব্যাপারী গণমাধ্যমকে বলেন ৫ডিসেম্বর সকাল আটটার দিকে আমার মেয়ে আমার স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছে।এর কিছুক্ষণ পরে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে আমার মেয়ের সাথে আর কথা বলতে পারি নাই। ওই দিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মেম্বার নূর জামাল মাদবর আমার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বলেন আপনার মেয়েকে দেখে যান, আপনার মেয়ের অবস্থা খুব খারাপ। দেখতে চাইলে  তাড়াতাড়ি চলে আসেন। তখনই আমি মেম্বার কে  বলি ভাই সত্যি বলেন কি হয়েছে আমার মেয়ের। কি হয়েছে তখন মেম্বার বলে আপনার মেয়ে মারা গেছে। তখন আমি সাথে সাথে আমার মেয়ের জামাই বাড়িতে চলে যাই। আমার মেয়েকে যে অবস্থায় দেখেছি, আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যা করে আমার মেয়ের পরনে গলায় স্বর্ণের চেইন হাতে থাকা দুইটা আন্টি এবং কানে এক জোড়া দুল এই জিনিসগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক জামাই। আমি এদের কঠিন শাস্তি চাই ফাঁসি চাই।তিনি আরো বলেন মেম্বার নুরজামাল মাদবর তাদের সাথে হাত মিলিয়ে আমার মেয়ের হত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর গণমাধ্যমকে বলেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেয়ের বাবা থানায় এসে বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা রেকর্ড হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



Side banner