• ঢাকা
  • রবিবার, ২৯ মে, ২০২২, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

তত্ত্বাবোধয়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের তেলেছমাতি


FavIcon
রংপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২২, ০৩:৩৩ পিএম
তত্ত্বাবোধয়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের তেলেছমাতি
তত্ত্বাবোধয়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের তেলেছমাতি

 ২০ কোটি টাকার টেন্ডার দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, খোদ রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবোধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১১টি গারবেজ কম্প্যাক্টর সরবরাহের জন্য ১৯ জানুয়ারি ২০২২ ইং তারিখে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। উক্ত টেন্ডারের যথাক্রমে (১) সরকার কবীর আহমেদ, (২) রানার ট্রেডিং লিঃ(৩) এইচ টি এম এস লিঃ ও (৪)সোহেল ইন্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন। অংশ গ্রহণ করে। 
প্রথম দরদাতা  হিসেবে ১৯,৩৮,০০,০০০/ টাকা দর দিয়ে  সরকার কবীর প্রথম দরদাতা হলেও। তদের উদ্ধৃত মালামাল চাহিদা  মোতাবেক নয় এবং কাগজ পত্র ভূয়া প্রমাণিত হওয়ায়। তাদের দরপত্র বাতিল  হয়। 
দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে  ১৯,৯৩,৭৪,৯৮৯/ টাকা দর দিয়ে। "রানার ট্রেডিং লিঃ" দ্বিতীয় দরদাতা বলে গন্য হয়।সিটি করপোরেশনের টেকনিক্যাল কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক।তাদের উদ্ধৃত মালামাল চাহিদা চাহিদা মোতাবেক আছে (ইটালি) এবং জমাকৃত কাগজ পত্র সঠিক প্রতীয়মান হয়এবং তাদের গাড়ি মেরামতের জন্য প্রায় ৩শ প্রতিষ্ঠান রয়েছে । 

তৃতীয় দরদাতা হিসেবে এইচ টি এম এস লিঃ ১৯,৯৯,৬০,০০০/ টাকা দিয়ে তৃতীয় দরদাতা হলেও, টেন্ডারে তাদের অভিজ্ঞতা নেই বলে এই টেন্ডারের ২য় টেন্ডারে তাদের বাতিল করা হয়। তাদের যে অভিজ্ঞতা আছে তা টেন্ডারের নয় বলে রংপুর সিটি কর্পোরেশন উহা বাংলাদেশ  সরকারের টেন্ডার নীতিমালা প্রনয়ণকারী প্রতিষ্ঠান "সিপিটিইউ" তে মন্তব্যের জন্য পাঠায়। "সিপিটিইউ" উক্ত অভিজ্ঞতা সঠিক নয় এবং তাদের গাড়ি মেরামতের জন্য কোন ব্যবস্তা নেই  বলে জানায়। 

চতুর্থ দরদাতা হিসেবে ২২,০৯,০০,০০০/টাকা দর দিয়ে সোহেল ইন্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন চতুর্থ দরদাতা বলে বিবেচিত হয়। তাদের ক্ষেত্রে বলা হয়, তাদের উদ্ধৃত মালামাল চাহিদা  মোতাবেক আছে (জাপান) এবং জমাকৃত কাগজ পত্র ঠিক  আছে  কিন্তু তাদের গাড়ি মেরামতের কোন ব্যবস্তা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। রংপুর সিটি করপোরেশনের দেয়া প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করলে এবং টেন্ডার নীতিমালা অনুসরণ করলে দ্বিতীয় নিন্মদরদাতা হিসেবে উক্ত কার্যাদেশ পাওয়ার দাবিদার "রানার ট্রেডিং লিঃ"। অথচ প্রকল্প পরিচালক তত্ত্বাবোধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে উক্ত কার্যাদেশটি "এইচ টি এম এস লিঃ"কে দেয়ার জন্য উঠে পরে লেগেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ দুর্নীতির বিস্তার অভিযোগ। একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে তিনি  অগ্রীম টাকাও নিয়েছেন। দূর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে দুদকে একাধিক অভিযোগ। পারিবারিক জীবনে তিনি ৩টি বিয়ে করেছেন। তার ১ স্ত্রী থাকে ঢাকায় আর বাকি দুই স্ত্রী থাকেন রংপুরে। সম্প্রতি তিনি আমেরিকা যাওয়ার ভিসাও করেছেন।আমেরিকা যাওয়ার অনুমতির জন্য তিনি মিনিস্ট্রিতে আবেদন ও করেছেন বলে জানা যায়। এব্যপারে জানতে এমদাদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।এমনকি তার ব্যবহত মোবাইলে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ  করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। টেন্ডার সংক্রান্ত ব্যাপারে, রংপুর সিটি করপোরেশনের শাখা প্রধান মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। এই টেন্ডারের বিষয়টি হচ্ছে  তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন আর মেয়র সাহেবের ব্যাপার। এব্যাপারে মেয়র মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাউকে টেন্ডার দেয়ার বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই। দুটি টেকনিক্যাল কমিটি আছে। তারা যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমি শুধু স্বাক্ষর করি মাত্র। যাদের কোন অভিজ্ঞতা নেই এবং তৃতীয় দরদাতা। তাদের কিভাবে কার্যাদেশ দিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করলে, বিষয়টি তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।এব্যাপারে জানত, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন খানের মোবাইলে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 



Side banner