• ঢাকা
  • রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

শরীয়তপুরে তীব্র গ্যাস সংকট! ১৫ শ” টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২২ শ” টাকায়


FavIcon
নুরুজ্জামান শেখ, শরীয়তপুরঃ
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
শরীয়তপুরে তীব্র গ্যাস সংকট! ১৫ শ” টাকার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ২২ শ” টাকায়

শরীয়তপুরের ৬টি উপজেলার সর্বত্রই এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। জেলায প্রায় ২০ জন ডিলার রয়েছে। তাদের কারো কাছেই কোন গ্যাস সিলিন্ডার নেই। ফলে বাসা বাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশের বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়ছে। ডিলারদের কারো কারো কাছে কিছু টোটাল কোম্পানীর গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। তাও দাম চড়া। ১৫০০ টাকার নিচে এ সকল ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে না। বিপদে পড়ে অনেক বাসা বাড়ির লোকজন বাধ্য হয়ে বেশী দাম দিয়েই নিচ্ছে এ সব গ্যাস সিলিন্ডার। তবে সাথে একটি রেগুলেটর নিতে হচ্ছে। বর্তমানে টোল গ্যাস রেগুলেটের সাইজ ২০। যদিও বাসাবাড়ির রেগুলেটর রয়েছে ২২ সাইজের। এ কারনে গ্যাসের নুৃতন রেগুলেটর কিনতে বাধ্য হচ্ছে। শরীয়তপুর শহর অঞ্চলে যে সকল লোকজন বসবাস করেন, তাদের মধ্যে যারা দোতলা থেকে বহতল ভবনে থাকেন তাদের জন্য সবচেয়ে বেশী সমস্যা পড়েছেন। ঐ সব পরিবারগুলো ইচ্ছে করলেই চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ করতে পারছে না। তাছাড়া ঐ সব ভবনের বাসাবাড়ীতে মাটির চুলা নেই। ফলে গ্যাস সংকটের কারনে চরম ভোগান্তি ঐ সব বাসা ও বাড়িতে। এমন সংকট চলতে থাকলে বাসা বাড়ীতে ৩/৪ দিন পরে রান্না করা কষ্টকর হবে। এক কথায় মাটির চুলায় রান্নার কাজ করতে বাধ্য হবেন। 
ডিলারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, শরীয়তপুরের ডিলাররা মংলাবন্ধর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে। ১ জানুয়ারী থেকে কোন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না গ্যাস কোম্পানীগুলো। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ করেছে ডিলাররা। ডিলাররা গাড়ী নিয়ে গ্যাস প্লান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে ৬/৭ দিন গ্যাস সিলিন্ডারের জন্য অপেক্ষা করে গ্যাস সিলিন্ডার আনতে হচ্ছে। চাহিদার তুললনায় সবরাহ একেবারে অপ্রতুল। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে ৪০০ বোতল সরবরাহ দিচ্ছে মাত্র। এতে করে খরচ বেশী হয়। এতে করে গ্যাসের দাম রেশী পড়ে। ফলে ভোক্তারা বেশী দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে কোন ফল পাচ্ছে না। নাম মাত্র মাঝে মধ্যে ২/১‘ একটি অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে প্রশাসন। এতে কোন সুফল পাচ্ছেনা জনসাধারন ।
এ ব্যাপারে ভোক্তা শেখ কামাল, দোলোয়ার বেপারী বলেন, শরীয়তপুরে গ্যাসের যে সংকট, তাতে ২/১ দিন পরে আমাদের বাসা বাড়ীতে কোন গ্যাস থাকবে না। আমাদের বাসায় গ্যাস না থাকলে কিভাবে রান্না করবো। কিভাবে খাব। বাধ্য হয়ে হোটেল রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে খেতে হবে।
ভোক্তা সেলিনা আকতার বলেন, হঠাৎ করে গ্যাস সংকট হওয়ায়, আমাদের সমস্যা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ না হলে আমাদের খুবই সমস্যা হবে। 
ডিলার সেলিম খান, বেলায়েত হোসেন রলেন, ১ জানুয়ারী থেকে কোন গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ দিচ্ছে না কোম্পানীগুলো। শরীয়তপুরের ডিলাররা মংলা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করে থাকে। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ করেছে। তাও গাড়ি নিয়ে  গ্যাস প্লান্টে গিয়ে ৬/৭ দিন সেখানে অপেক্ষা করে পরে সিরিয়াল পেয়ে গ্যাস সিলিন্ডার আনতে হয়েছে। ১০০ বোতলের চাহিদা দিলে ৪০০ বোতল সরবরাহ দিয়েছে। এতে করে খরচ  বেশী হয়। 
শরীয়তপুর জেলায় গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট বলেন, ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ করেছে। তাও গাড়ি নিয়ে  গ্যাস প্লান্টে গিয়ে ৬/৭ দিন সেখানে অপেক্ষা করে গ্যাস সিলিন্ডার আনতে হয়েছে। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে ৪ শত বোতল সরবরাহ দিয়েছে। এতে করে খরচ বেশী হয়। ১ জানুয়ারী থেকে কোন গ্যাস দিচ্ছে না। এসব কারনে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিবার ফোন করলে তিনি ফোন রিভিস করেনি।


Side banner

সারাবাংলা বিভাগের আরো খবর

Link copied!