শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় জাল কাগজপত্র দিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি দলিল করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত দলিল বাতিলের দাবিতে শরীয়তপুর জেলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছে প্রকৃত জমির মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম। নড়িয়া উপজেলা সাব- রেজিস্টার বলেন, দলিল লেখক( ভেন্ডার ) আমার নিকট যে রকম উপস্থাপন করেছে সেই অনুযায়ী আমি দলিল করে দিয়েছি।পরে জানতে পেরেছি সম্পূর্ণ কাগজপত্র ভুয়া বা জাল ছিল। পরে আমি ভেন্ডার জহিরুল ইসলামকে সাময়িকভাবে দলিল সম্পাদন না করতে মৌখিকভাবে নিষেধ করেছি।
জমির প্রকৃত মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , শরীয়তপুর নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের ৮৮ নং বাড়ৈ পাড়া মৌজার এস এ ৪১৯ নং খতিয়ানের এস এ ৪৯০ নং দাগে বিআরএস ৯২৮ নং দাগের ৫৪ শতাংশ জমি তার বাবা মৃত ওসমান গনি সরকার ১৯৬১ সালে নিলাম খরিদের মাধ্যমে মালিক হন। সেই থেকে তিনি স্থায়ীভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। পরে বিআরএস মাঠ জরিপের সময় তার নামে ৫৪ শতাংশের পরিবর্তে ৩৪ শতাংশ জমি বিআরএস রেকর্ড হয়। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ জমি সরকারি খাস খতিয়ানের অর্ন্তভুক্ত হয়। ২০১৩ সালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক বরাবর ৯০১ নং আবেদনের মাধ্যমে ২০ শতাংশ জমি তার নিজ নামে সংশোধন করে নেয়। বর্তমানে উক্ত জমিতে ঘরবাড়ী নির্মাণ করে তার ওয়ালী ওয়ারিশগণ বসবাস করে আসছেন। উক্ত সম্পত্তি জাল কাগজপত্র সৃজনকারী একটি চক্র ভুয়া মিটিশন নামজারি, জাতীয় পরিচয় পত্র,পর্চা বানিয়ে ভুয়া দাতা অমিত রুদ্রপাল ও সুভর রুদ্রপাল গ্রহিতা মাহির বেপারি পিতা কবির আহাম্মদ বাড়ৈ পাড়া এলাকার বাসিন্দা দেখিয়ে উক্ত ২০ শতাংশ জমি প্রথমে শ্রেণী পরিবর্তন করে তথা বাড়ী শ্রেণীর জমিকে নাল দেখিয়ে ২৪ লাখ টাকা মুল্য দেখিয়ে দলিল সম্পাদন করে। পরে নড়িয়া উপজেলা সাব রেজিস্টার ভেন্ডারকে ডেকে এনে আবার বাড়ী দেখিয়ে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা মুল্য দেখিয়ে দলিল চূড়ান্ত করে। এরকম জাল -জলিয়াতি কাজের সহায়তা করেন দলিল লেখক জহিরুল ইসলাম। পরবর্তীতে ভুয়া ও জাল কাগজপত্রের প্রমাণ পাওয়ার পরেও নড়িয়া উপজেলা সাব রেজিস্টার পুণরায় বাড়ী শ্রেণীর জমি হওয়ায় বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা মূল্য দেখিয়ে ওই পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তৈরী দলিলের অনুমোদন দেয়। জাল জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে জমির প্রকৃত মালিক মোঃ নজরুল ইসলাম বাদি হযে ৬ জনকে আসামি করে শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নড়িয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভেন্ডার (দলিল লেখক) মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন , আমাকে মাহির বেপারী ও শ্রাবন্তী গংরা কাগজ পত্র নিয়ে আসলে তাদের কাগজ পত্র দেখে আমি দলিল সম্পাদন করি। পরে বুঝতে পারি সব কাগজ পত্রই জাল বা ভুয়া। আমি বিষয়টি সাব রেজিষ্টার স্যার কে বুঝিয়ে বলি। তার পর ও তিনি দলিল করেছেন।
ঘড়িসার ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) সিরাজুল ইসলাম বলেন , আমার নিকট মতামতের জন্য পাঠানো হলে আমি কাগজ পত্র দেখে মতামত প্রদান করি। পরে তারা কি কাগজ দিয়ে কি করেছে আমি বিষয়টি জানি না।
বাদী পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফাহাদ হাসান জনি বলেন, ভুয়া আইডি কাড, নামজারি ,ঠিকানা বিহীন,ভুয়া লোক দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে দলিল টি করেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি।
নড়িয়া উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় বলেন, আমার নিকট ভেন্ডার সব কাগজ পত্র ঘুছিয়ে দলিল সাবমিট করেছে। সে অনুযায়ী আমি দলিল করে দিয়েছি। এখন দলিল বাতিল করতে হলে তাদের কে আদালতে মামলা করতে হবে। দলিল বাতিল করার ক্ষমতা আমার নেই। তবে আমি পরে কাগজপত্র ভুয়া বলে জানতে পেরেছি।
আপনার মতামত লিখুন :