দেশ আমাদের অনেক দিয়েছে। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদ জীবন দিয়েছে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বহু মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে। আজ এই লাখ লাখ মানুষের সামনে আমি হয়তো দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম, আপনারা হয়তো হাততালি দিতেন। তাতে কোনো লাভ হতো না।
একটি গোষ্ঠী আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন ‘গুপ্ত তোমরা’। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে তাদের একটি নাম- তারা গুপ্ত। কারণ গত ১৬ বছর তাদেরকে আমরা দেখি নাই। তারা তাদের সাথেই মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাইকপাড়ায় বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিরাজগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি তাঁত বা লুঙ্গির কথা বলি, তাহলে চোখের সামনে ভেসে উঠে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার এলাকা। এই এলাকার মানুষ তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। ক্ষমতায় গেলে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারবো।
মানুষ এখন জানতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ এখন দেখতে চায় যে কোন রাজনৈতিক দল এখন কোন পরিকল্পনা করবে দেশ ও জনগণের জন্য। যাতে এই দেশ আগামীতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এই মুহূর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দলের অভিজ্ঞতা আছে কীভাবে দেশকে সুন্দরভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পরিচালনা করতে হয়। বিএনপি ছাড়া এই বাংলাদেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারে- অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এ রকম কোনো রাজনৈতিক দল নেই।
তিনি আরও বলেন, মানুষ তার ওপরেই ভরসা করে যার অভিজ্ঞতা আছে। মানুষ তার ওপরে ভরসা করে যার ওপরে ভরসা করা যেতে পারে, যে মানুষকে বিপদের সময় ফেলে রেখে চলে যায়নি। এসব গুণ বিএনপির মধ্যে আছে। যদি দেশের ২০ কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, তাহলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিরাজগঞ্জের পাঁচটি ও পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট চান তারেক রহমান।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি রোমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় জনসভায় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল থেকেই সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক সমাবেশে যোগ দেন। বেলা ১২টার মধ্যেই সমাবেশস্থল এবং আশপাশের সড়ক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
সমাবেশে জেলা পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা । এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের প্রায় সাত শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী মাঠে ছিলো। সমাবেশে জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের কর্মীরা বিভিন্ন রঙ এর পোশাক ও টুপি পরে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক এলাকায় প্রবেশ করেন।
উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে জনসভায় উপস্থিত ছিলেন। ২০০৮ সালে দেশ ছাড়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
আপনার মতামত লিখুন :