ভোলার চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সোহাগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, একই কর্মস্থলে প্রায় আট বছর ধরে কর্মরত সোহাগ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগেও ও পরেও কোনো অনিয়ম বাদ দেননি—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মুখে মুখে। ভূমি সংক্রান্ত কাজ, প্রকল্প অনুমোদন, ফাইল নড়াচড়া—সব ক্ষেত্রেই ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হতো না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চরফ্যাসন পৌরসভার সাবেক মেয়র মোর্শেদ মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সোহাগ একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এছাড়া সরকারি কলেজের সামনে তার নামে রয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ জমি। বিএড কলেজ ও মুক্তাদির মোল্লা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আরও একাধিক জমির মালিক তিনি—এমন তথ্যও মিলেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সহকারীর মাসিক বেতন কত—আর সেই আয়ের সঙ্গে এসব জমি ও বহুতল ভবনের অর্থনৈতিক উৎসের সামঞ্জস্য কোথায়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে আদায়কৃত সরকারি ভ্যাট নির্ধারিত ভ্যাট আইডিতে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, সেই অর্থের একটি বড় অংশ জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন সোহাগ। অভিযোগ রয়েছে, লক্ষ লক্ষ টাকার ভ্যাট সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সোহাগের বিরুদ্ধে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—ইউএনও কার্যালয়ের ভেতরে থেকেই কি দীর্ঘদিন ধরে এই দুর্নীতি চলে আসছে?
সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্ত না হলে সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
আপনার মতামত লিখুন :