শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মাছ চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩০) নামের এক যুবককে হাত-পা বেঁধে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ডান পা ও চোখ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকায় সাবেক জেলা যুবলীগের সদস্য ও বর্তমান শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সহ সভাপতি শাহীন মাদবরের মাছের ঘেরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সেলিম পাইক। এ সময় ঘেরের কর্মচারীরা তাকে ‘মাছ চোর’ সন্দেহে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। প্রথমে তাকে পানিতে চুবিয়ে পাড়ে আনা হয় এবং সেখানে এক দফা মারধর করা হয়।
পরবর্তীতে ঘেরের মালিক শাহীন মাদবর ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলিমের হাত বেঁধে মাটিতে ফেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার পায়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে। ৪৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আত্ম চিৎকার করতে থাকে । এ সময় তার আত্ম চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। নির্যাতনের একপর্যায়ে সেলিমের ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে স্থানীয়দের চাপের মুখে অভিযুক্তরা তাকে শরীয়তপুর সদও হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
তার অপর একটি ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে নিচে ফেলা রাখা হয়েছে। মাছের ঘেরের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোরে পিটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন। এসময় সেলিম চিৎকার করে কাতর আর্জি জানাচ্ছেন।
আহত সেলিম পাইক জানান, তিনি মাছ চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না। ঘেরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে এই বর্বরতা চালানো হয়েছে।
আহত সেলিম পাইক বলেন , চা দোকান থেকে জোড় কওে ধওে নিয়ে কয়েক দফা পিটিয়ে আমার ডান পা ভেংগে দিয়েছে ও চোখ নষ্ট করে দিয়েছে ঘের মালিক যুবদল নেতা শাহীন মাদবর ও তার লোকজন। বিষয়টি সাংবাদিক ও প্রশাসন কে জানাতে প্রান নাশের হুমকি দিয়েছে তারা।
সেলিমের ভাই জয়নাল আবেদীন বলেন, সেলিম কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এবং অত্যান্ত গরীব মানুষ। সে যদি চুরি করত তবে তার কাছে মাছ পাওয়া যেত। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে পিটিয়ে পংগু করে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঘের মালিক শাহীন মাদবর একাধিকবার মোবাইল ফোন দিয়ে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরীয়তপুরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান এই ঘটনাকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করেছেন।
শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন , বিভিন্ন সময় পোষ্টার ব্যানারে বিভিন্ন পদ পদবী লিখে। ও আসলে আমাদেও দলের কেউ না।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন ,শরীয়তপুর সদও হাসপাতালে গতকাল জরুরী বিভাগে ডামুড্যা এলাকার সেলিম পাইক নামের একজনকে অজ্ঞাতনামা লোকজন তাকে ভর্তি করে চলে যায়। তাকে মাছ চুরির অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে ডান পা ভেঙ্গে দিয়েছে। এবং চোখ নষ্ট করে দিয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনেক আঘাত রযেছে। তাকে আশংকা জনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :