শরীয়তপুর জেলায় এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলায় বিভিন্ন কোম্পানির ২০ জন ডিলার থাকলেও কারো কাছেই সিলিন্ডার নেই এমন অজুহাত দেখাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ফলে বাসা-বাড়িতে রান্নার কাজ অনেকাংশের বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিলারদের কারো কারো কাছে কিছু টোটাল কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা গ্যাস মজুদ রাখার কারনে দাম চড়া। ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার টাকায় এমন তথ্য মিলছে বাজার ঘুরে।
বিপদে পড়ে অনেক বাসাবাড়ির লোকজন বাধ্য হয়ে বেশি দাম দিয়েই নিচ্ছেন গ্যাস সিলিন্ডার। এতে করে মধ্য ও নিন্ম আয়ের মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমন অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও গ্যাস সংকট, চরা দাম চলতে থাকলে ভোক্তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে অনেকেই জানিয়েছেন।
শরীয়তপুর শহর অঞ্চলে যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাদের মধ্যে যারা দোতলা থেকে বহুতল ভবনে থাকেন তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি সমস্যা পড়েছেন। এসব পরিবার ইচ্ছে করলেই লাকড়ির চুলায় রান্নার কাজ করতে পারছেন না। তাছাড়া এসব ভবনের বাসাবাড়িতে মাটির চুলা নেই। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি হচ্ছে এসব বাসা-বাড়িতে।
ডিলার সেলিম খান ও বেলায়েত হোসেনের ভাষ্য, তাদের পণ্য মোংলা বন্দর থেকে সরবরাহ করা হয়। ১ জানুয়ারি থেকে কোনো গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছে না কোম্পানিগুলো। ১৫ ডিসেম্বর থেকে তারা চাহিদার অর্ধেক সিলিন্ডার পাচ্ছেন।
ডিলাররা গাড়ি নিয়ে ছয়-সাত দিন ধরে কোম্পানির প্ল্যান্টে গিয়ে সিরিয়াল দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার আনছেন। তাও চাহিদার তুললনায় সরবরাহ একেবারে অপ্রতুল। এক হাজার গ্যাস সিলিন্ডারের বিপরীতে হয়ত ৪০০টি পাওয়া যাচ্ছে। এতে খরচ বেশি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে গ্যাসের ভোক্তা শহরের বাসিন্দা ইব্রাহীন মোল্ল্যা বলেন, “শরীয়তপুরে অনেক দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখিয়ে, ভোক্তদের বাধ্য করে বেশী দাম নিচ্ছে। এমন চলতে থাকলে আমাদের রান্না কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের দোকান থেকে রুটি কলা খেয়ে বাচঁতে হবে।
শিক্ষিকা সিরিন শীলা বলেন, গ্যাস সংকট ও উর্ধ্বগতির কারনে গত ২ দিন ধরে ভবনে অগ্নকান্ডের ঝািক নিয়ে মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছি।
আফিফা এন্টারপ্রাইজ এর মালিক মাসুদ মাদবর বলেন, আমরা ছোট দোকাদার। সরকারী নির্ধারিত ১২ কেজি গ্যাসের দাম ১৩ শ টাকা, আমরা ডিলারদেরকে ১৫০০ টাকা দিয়ে কোন গ্যাস পাচ্ছি না।
শরীয়তপুর জেলা গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট বলেন, শরীয়তপুর জেলায় গ্যাস বিক্রেতা সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম পাইলট বলেন, ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের পর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ করেছে। তাও গাড়ি নিয়ে গ্যাস প্লান্টে গিয়ে ৬/৭ দিন সেখানে অপেক্ষা করে গ্যাস সিলিন্ডার আনতে হয়েছে। ১ হাজার বোতলের চাহিদা দিলে ৪ শত বোতল সরবরাহ দিয়েছে। এতে করে খরচ বেশী হয়। ১ জানুয়ারী থেকে কোন গ্যাস দিচ্ছে না। এসব কারনে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
গ্যাস বিত্রেæতা পলাশ খান বলেন, ডিলাররা আমাদের গ্যাস দিচ্ছে না। তাই আমরা গ্যাস বিত্রিæ করতে পারছি না। ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দিতে পারছিনা।
রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায়ী আবদুস সামাদ হাওলাদার বলেন, “গ্যাসের উপর আমাদের নির্ভর করে রান্না চালাতে হয়। কিন্তু গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়া আমাদের গ্যাস কিনতে হয় ৪ হাজার টাকায়। দাম বেশি হওয়ায় আমাদের লাভ তো হচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
শরীয়তপুরের ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “এটা জাতীয় সমস্যা। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাদের জানান।
এ ব্যাপারে জানতে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
আপনার মতামত লিখুন :