• ঢাকা
  • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

মজুরি দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে আগুন


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
মজুরি দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, কোনাবাড়ী পুলিশ বক্সে আগুন

গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈর এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ব্যাপক বিক্ষোভ ও অবরোধের মুখে পড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা (১ নভেম্বর) মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং একপর্যায়ে কোনাবাড়ী এলাকার একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা তাদের বিক্ষোভ শুরু করেন। দ্রুতই এই আন্দোলন সফিপুর, রতনপুর এবং আশপাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহাসড়কে নেমে আসেন। তাদের এই আকস্মিক অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। তবে এতে শ্রমিকদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায় এবং তারা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক কার্যত অচল হয়ে পড়ে এবং এই পথে চলাচলকারী হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে দীর্ঘ সময় ধরে আটকা পড়েন।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের পাশে থাকা একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশ বক্সের ভেতরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল বাইরে এনে সেগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

কোনাবাড়ী জোনের ট্রাফিক পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই পুলিশ সদস্যরা কোনাবাড়ী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন। শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করার সময় হঠাৎ করেই ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকরা তাদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে সকাল থেকে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের ফলে শিল্পাঞ্চলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোশাক শিল্পকে প্রভাবিত করছে। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির এই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত হচ্ছে, যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে আরও জোরালো হয়েছে।


Side banner
Link copied!