রবিবার (১ নভেম্বর, ২০২৬) জাতীয় যুব দিবসের এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুবসমাজকে দেশের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজের হাতে এই চালিকা শক্তি তুলে দিতে হবে এবং তাদের কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যুবশক্তির অমিত সম্ভাবনা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একটি জাতির প্রকৃত অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি অর্জনে যুবসমাজের কোনো বিকল্প নেই। তাদের মেধা, শক্তি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে দেশ উন্নয়নের নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন বা বিপ্লব দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়; বরং একটি সুদূরপ্রসারী ও টেকসই দেশ নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যুবসমাজকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। এই দেশ গড়ার কাজে যুবশক্তির অংশগ্রহণই পারে দেশকে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যেতে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুবসমাজকে সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজের যেসব অশুভ দিক রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে যুবসমাজকে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে। রাষ্ট্রপতির এই বার্তা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজের নৈতিক দায়িত্বের প্রতিও ইঙ্গিত দেয়।
রাজনীতির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি এক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি সব কিছু নিয়ে রাজনীতি না করে গঠনমূলক কাজ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তার ভাষায়, 'রাস্তায় নয়, পার্লামেন্ট কেন্দ্রিক রাজনীতি হতে হবে।' তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, 'আন্দোলন করে ফ্যাসিস্ট শক্তিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে।' রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার আস্থাকে প্রতিফলিত করে। তিনি যুবসমাজকে সহিংস বা অস্থিতিশীল রাজনীতির পরিবর্তে গঠনমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির কোনো বিকল্প নেই। তিনি জানান, সরকার এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে। শিক্ষিত ও দক্ষ যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে দেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এই উদ্যোগ যুবকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং তাদের কর্মজীবনের সুযোগ আরও প্রসারিত করবে।
জাতীয় যুব দিবসের এই আয়োজনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার এই আহ্বান যুবসমাজকে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করবে এবং তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও গঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণের স্পৃহা জাগিয়ে তুলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে যুবসমাজের ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার এবং সমাজের সকল স্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
আপনার মতামত লিখুন :