• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, অনিয়মে প্রার্থিতা বাতিলের হুঁশিয়ারি


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
প্রথম ধাপে ৮০০ ইউপিতে ভোট, অনিয়মে প্রার্থিতা বাতিলের হুঁশিয়ারি

আগামী বছরের ২৭ মে’র মধ্যে পাঁচ ধাপে দেশের প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপে প্রায় ৮০০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, পেশিশক্তির ব্যবহার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিধি লঙ্ঘনকারী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে নির্বাচনী এলাকার তালিকা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমে জেলা সদরসংলগ্ন এবং পরবর্তী সময়ে উপজেলা সদরের কাছাকাছি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করাই কমিশনের লক্ষ্য। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সহযোগিতা নেওয়া হবে। নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ প্রভাব বিস্তার কিংবা পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করলে বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে জুডিশিয়াল ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। মারামারি, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো ঘটনা বরদাশত করা হবে না। কোনো প্রার্থী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে। কমিশনের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সবাইকে আইন মেনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা।

গত সোমবার কমিশন সভা শেষে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব পরিষদের নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। সাধারণত ভোটগ্রহণের ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনী অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ এবং ভোটারদের বাধা দেওয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালায় শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত নির্বাচন বিধিমালার ৮০(ক) বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া, আঘাত করা কিংবা দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একইভাবে অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া, তাঁদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা দায়িত্ব পালনের সরঞ্জাম নষ্ট করলেও শাস্তির বিধান রয়েছে।

কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না দেওয়া কিংবা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে বাধ্য করার মতো কর্মকাণ্ডও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী, তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট কিংবা তাঁদের নির্দেশনা বা সম্মতিতে অন্য কেউ নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেলে কমিশন তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে লিখিত আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল প্রভাবিত হলে কমিশন সেই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শেষে পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে ইসির।

নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নজরদারিতে রাখতে মনিটরিং কমিটি গঠনের বিধানও রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন প্রয়োজনীয়সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করতে পারবে। কমিটিগুলো নির্বাচনী অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করবে।

পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি এবং নির্বাচনী বিধিমালা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করাই এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রধান দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগে দ্রুত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তার ওপর নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।


Side banner
Link copied!