শরীয়তপুর সদর পৌরসভা ৩ নং ওয়ার্ডের বাগিয়া নামক স্থান থেকে মাদক বিক্রি করার দায়ে মিরাজ সরদার (২৫) ১০৫ পিচ ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। মাদক সহ গ্রেফতার মিরাজ সরদার হচ্ছে কামাল চৌকিদারের জামাতা বিশিষ্ট মাদক কারবারি খবির ছৈয়ালের ঘনিষ্ঠ সহচর । ইতোপূর্বে মাদক বিক্রির দায়ে বিশিষ্ট মাদক কারবারি খবির ছৈয়াল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে পাঁচবার গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা গেছে।বাগিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল চৌকিদারের জামাতা মাদক কারবারি খবির ছৈয়ালের ঘনিষ্ঠ পার্টনার মিরাজ সরদার ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই ওই অত্র এলাকায় স্বস্তির ছায়া নেমে এসেছে।
গত ২০ অক্টোবর( মঙ্গলবার) দিবাগত গভীর রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পালং থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলমের নির্দেশক্রমে পালং থানার পুলিশের একটি ফোর্স নতুন বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে বাগিয়া নামক স্থান থেকে মাদক কারবারি মিরাজ সরদার কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মাদক সম্রাট খবির ছৈয়াল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,মাদক কারবারি খবির ছৈয়ালের ঘনিষ্ঠ পার্টনার মিরাজ সর্দার শাবনুর মার্কেট ও বাগিয়া নামক স্থানে মাদক বিক্রির প্রস্তুতিকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পালং থানা পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।ইয়াবার সহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার মিরাজ সরদারের তথ্য দেওয়া মতে জানতে পারি মাদক সম্রাট খবির ছৈয়াল (৪০) বাগিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল চৌকিদারের জামাতা। মাদক সম্রাট খবির ছৈয়ালের মূল বাড়ি সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নে। মাদক সম্রাট খবির ছৈয়াল দীর্ঘদিন যাবত বাগিয়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে তার সঙ্গবদ্ধ চক্র নিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।তথ্য মতে আরও জানা গেছে মাদক কারবারের মূল হোতা খবির ছৈয়াল ও মিরাজ সরদার সহ সংঘবদ্ধ চক্রের মাদক বিক্রির বিস্তার শাবনুর মার্কেট, নতুন বাস স্ট্যান্ড, বাগিয়া, প্রেমতলা, কুরাশি,বালাখানা, দাসত্তা নামক স্থান পর্যন্ত। মাদক সম্রাট খবির ছৈয়াল তার সঙ্গবদ্ধ চক্র নিয়ে মাদক বিক্রির একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।মাদক কারবারের সাথে জড়িয়ে পড়েছে বাগিয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কামাল চৌকিদারের স্ত্রী এবং তার পুত্র সুমন চৌকিদার এবং তার মেয়েরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জেনেও নারী নির্যাতনের মামলার ভয়ে মুখ খুলতে পারছে না।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন গন মাধ্যমকে বলেন, মাদক কারবারি খবির ছৈয়াল একসময় ফার্নিচারের বানিশ মিস্ত্রি ছিল। ওর মূল বাড়ি ডোমসার ইউনিয়নে।কবির আমাগো এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। আমি যতটুকু জেনেছি কামাল চৌকিদারের পুরো পরিবার সহ জামাই খবির দীর্ঘদিন যাবত মাদক বিক্রি করে আসছে। কিছুদিন আগের কথা খবির সংসার চালাত বানিশ মিস্ত্রির কাজ করে। সেই খবির এখন অনেক টাকার মালিক। মাদক বিক্রির টাকা দিয়ে অনেক জায়গা জমি কিনেছে, দামি মোটরসাইকেল দিয়ে এখন চলে।সে কোন কাজকর্ম করে না ফুড বাবুর মতন চলাফেরা করে। তার এখন ভাব সাবই আলাদা।মাদক বিক্রির দায়ে এ পর্যন্ত পাঁচবার গ্রেফতার হয়েছে। মাদক বিক্রির মূল হতাই হচ্ছে খবির। মাদক বিক্রির একটি বাহিনী আছে খবিরের। আমার কথা বিশ্বাস করবেন কেন? আপনারা তদন্ত করে দেখেন। অত্র এলাকার যুব সমাজ ধ্বংসের পথে।নেশাখোরেরা তাদের মাদক সেবনের টাকা জোগাতে গিয়ে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে এমনকি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি শাবনুর মার্কেট এলাকায় চারজন মাদক কারবারি মাদক বিক্রি করিতেছে।এমন সংবাদ পেয়ে আমি পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠাই। মিরাজ সরদার নামে এক মাদক কারবারী কে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। বাকি তিনজন ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। আটককৃত মিরাজ সরদার কে বরি তল্লাশি করে প্যান্টের বেলের ভিতর ১০৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। আমাদের পুলিশের সাথে দস্তা দস্তি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। প্রচলিত আইনের মামলা হয়েছে। বাকি তিনজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
আপনার মতামত লিখুন :