• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

স্বামীর অফিস থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২১, ০৬:২৯ পিএম
স্বামীর অফিস থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রংপুরের তারাগঞ্জে স্বামীর অফিসে হাফিজা খাতুন (৩২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।বুধবার (৯ জুন) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের বুড়িরহাট শাখা অফিসের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত হাফিজা খাতুন বুড়িরহাট শাখা ব্র্যাক অফিসের অফিস সহায়ক নুর আলমের স্ত্রী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর আগে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের হাফিজা খাতুনের সঙ্গে একই জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নূর আলমের বিয়ে হয়। চাকরির কারণে নুর আলম ও তার স্ত্রী হাফিজা খাতুন গত ছয় মাস ধরে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বস পাড়া গ্রামের জনৈক জবুর আলীর বাসায় ভাড়া থাকতেন।পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। গত শুক্রবার (৪ জুন) দুজনের মধ্যে ঝগড়া হলে হাফিজা খাতুন অভিমান করে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে গত মঙ্গলবার (৮ জুন) রাতে হাফিজা বাসায় ফিরে আসেন। তবে সেখানে এসে বাসার কোনো জিনিসপত্র না থাকায় এবং নূর আলমকে না পেয়ে পরদিন সকালে তিনি বুড়িরহাট ব্র্যাক অফিসে যান। সেখানে পৌঁছে অফিসের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন হাফিজা। এর ফাঁকে গেস্ট রুমে ঢুকে কোনো এক সময় গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।স্থানীয় হুমায়ুন সরকার লরেন্স অভিযোগ করে বলেন, নুর আলমের সঙ্গে ওই এলাকার এক নারীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যার কারণে হাফিজার সঙ্গে নুর আলমের প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। সেজন্য হাফিজা অফিস স্টাফের কাছে বিচার দাবি করে না পেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।নুর আলম বলেন, আমি অফিসে উপস্থিত ছিলাম না। সে অফিসে এসে স্টাফদের সঙ্গে কথা বলে কেন আত্মহত্যা করেছে তা আমার জানা নেই। আমার অফিস স্টাফরাই ভালো বলতে পারবেন।হাফিজা খাতুনের বাবা তৈয়ব আলী অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকে নানাভাবে আমার মেয়ে হাফিজাকে নির্যাতন করে আসছেন নুর আলম। হাফিজার একটি ছেলে সন্তান জন্মের ৬ বছর পরে মারা যায়। এরপর থেকে আরও বেশি নির্যাতন শুরু করে নুর আলম। তদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক বিচার দাবি করছি।
ব্র্যাকের বুড়িরহাট শাখা ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, হাফিজা অফিসে এসে আমার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন। তারপর গেস্ট রুমে কখন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তা আমরা কেউ জানি না। পরে গেস্ট রুমের দরজা বন্ধ দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়।তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহম্মদ বলেন, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।



আরও পড়ুন

Side banner