• ঢাকা
  • সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২

নিম্নমান সহকারী থেকে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক: কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মাসুমা


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
নিম্নমান সহকারী থেকে অর্ধশত কোটি টাকার মালিক: কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মাসুমা

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মাসুমা ফেরদৌসকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, নিম্নমান সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগদান করা এই কর্মকর্তা অল্প সময়ের মধ্যেই গড়ে তুলেছেন অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়, যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

জানা গেছে, জেলা পরিষদে যোগদানের পর থেকেই মাসুমা ফেরদৌস জমি ইজারা, ইজারা নবায়ন, নাম পরিবর্তন এবং সিপিপিসি (CPPC) প্রকল্প সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের দায়িত্ব পান। অভিযোগ রয়েছে, এসব কাজের প্রতিটি ধাপে তিনি নিয়মিতভাবে লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করতেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জায়গা বা দোকান ইজারা ও নবায়নের সময় মোটা অংকের অর্থ না দিলে সংশ্লিষ্টদের ফাইল দিনের পর দিন আটকে রেখে হয়রানি করা হতো।

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন,মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সিপিপিসি প্রকল্পের ফাইল তৈরি, অনুমোদন কিংবা স্ট্যাম্প লেখার নামেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন তিনি।
তাদের দাবি—“ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইলে তার স্বাক্ষর মিলত না।”

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম—যিনি মাসুমা ফেরদৌসের চাচা—তার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে সুরক্ষা দিয়ে আসছেন।

এই প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম–এর কাছ থেকে কোটি টাকা মূল্যের একটি দোকান তার স্বামীর নামে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


সূত্র অনুযায়ী, মাসুমা ফেরদৌসের নামে রয়েছে—কুষ্টিয়া শহরের পেয়াতলা, গোশালা ও এনএস রোড এলাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে বিপুল অংকের এফডিআর ও নগদ আমানত

এসব সম্পদের উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন থাকলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান তদন্ত হয়নি।
এ অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে,জেলা পরিষদের প্রধান সহকারী মাসুমার মুঠো ফোনে একাধিক ফোন করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। 
ভুক্তভোগীদের মতে, মাসুমা ফেরদৌসের মতো বিতর্কিত কর্মকর্তার কারণে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে এসে হয়রানি ও আর্থিক শোষণের শিকার হচ্ছেন।

সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি—মাসুমা ফেরদৌসের সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, ইজারা ও সিপিপিসি প্রকল্প সংক্রান্ত সব ফাইল খতিয়ে দেখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।


Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Link copied!