• ঢাকা
  • সোমবার, ০৮ আগস্ট, ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯

লাখ টাকার চুক্তিতে প্রশ্ন ফাঁস করতেন তিনি


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২১, ০৮:৪৭ এএম
লাখ টাকার চুক্তিতে প্রশ্ন ফাঁস করতেন তিনি
লাখ টাকার চুক্তিতে প্রশ্ন ফাঁস করতেন তিনি

ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিম। গ্রেফতাররা হলেন- আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক (পিয়ন) দেলোয়ার হোসেন (৩১) ও তার দুই সহযোগী পারভেজ মিয়া (২৯) ও রবিউল আউয়াল (৩৪)। তারাও আহছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী।

ডিবি বলছে, প্রশ্নফাঁসকারী এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হলেন গ্রেফতার আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিয়ন দেলোয়ার। লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি প্রশ্ন ফাঁস করতেন। তার কাজ ছিল শুধু একসেট প্রশ্ন বাইরে বের করে আনা। প্রশ্ন ফাঁস করার কথা স্বীকার করাসহ তিনি প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের নাম বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।


বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহাদত হোসেন সুমা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বুধবার (১৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে দেলোয়ার হোসেন ও রবিউল আউয়ালকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে পারভেজ মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হলে তিনজনই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, দেলোয়ার হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার কাজী শফিকুল ইসলামের অফিসে পিয়ন হিসেবে যোগদান করেন। কয়েক মাস পর জানতে পারেন ব্যাংকসহ বিভিন্ন চাকরি পরীক্ষার প্রশ্ন ছাপা ও পরীক্ষার টেন্ডার পায় আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। যেহেতু ট্রেজারার পরীক্ষা কমিটিতে থাকতেন, সেহেতু তাকে প্রশ্ন ছাপার বিভিন্ন কাজে নেওয়া হতো। এ কাজে তিনি নিয়মিত আশুলিয়ায় আহছানিয়া মিশনের নিজস্ব ছাপাখানায় যেতেন। সেখানে নজরদারি ও নিরাপত্তার অনেক অভাব ছিল। সেই সুযোগে দেলোয়ার লুকিয়ে প্রশ্ন নিয়ে বের হতেন। তাকে এই কাজে প্রলোভন দেন আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের আইসিটি টেকনিশিয়ান মোক্তারুজ্জামান রয়েল ও ল্যাব সহকারী পারভেজ মিয়া। তাদের অনুরোধে তিনি কমপক্ষে ৪ থেকে ৫টি পরীক্ষার প্রিলি ও রিটেনের প্রশ্ন এনে দিয়েছেন। প্রতিবার তারা তাকে ৫০ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে শ্যামল নামে একজন ছিলেন।

এডিসি শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, গ্রেফতার রবিউল আউয়াল জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি আহছানিয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্সে বাইন্ডার পদে কর্মরত। তার হাতের আঙুলের আঁচিলের জন্য আহছানউল্লা ইউনিভার্সিটির সহকারী দেলোয়ারের কাছে ওষুধ চেয়েছিলেন। ওষুধ দেওয়ার কথা বলে দেলোয়ার তাকে কামারপাড়া গিয়ে মোক্তারুজ্জামান রয়েল ও পারভেজের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেযন।‘অপর আসামি পারভেজ মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি আহছানউল্লা ভার্সিটিতে ল্যাব সহকারী পদে চাকরি করেন। পারভেজ ও মোক্তারুজ্জামান মিলে দেলোয়ারের সঙ্গে কথা বলে প্রেসের রবিউলের সঙ্গে এক সপ্তাহ আগে দেখা করেন। গত ৪ নভেম্বর নবীনগর স্মৃতি সৌধের পাশ থেকে মোক্তারুজ্জামান, পারভেজ ও রবিউলের কাছ থেকে ৬ নভেম্বরের ব্যাংকের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নেযন। মোক্তারুজ্জামান প্রশ্নপত্র নিয়ে বাসায় চলে যান।
এই ডিবি কর্মকর্তা বলেন, দেলোয়ার, পারভেজ ও রবিউল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেলোয়ার প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের অন্যতম হোতা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়েছেন। আমরা এসব যাচাই করছি। তাদের আজ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা তিনজনই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, দেলোয়ার আরও অন্তত পাঁচ-ছয়বার প্রশ্ন ফাঁস করার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া তিনি প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে ঊর্ধ্বতন কয়েকজনের নাম বলেছেন। তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।

গত ৬ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিম।

গ্রেফতাররা হলেন- প্রশ্ন ও উত্তর ফাঁসের মূলহোতা আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের আইসিটি টেকনিশিয়ান মোক্তারুজ্জামান রয়েল (২৬), জনতা ব্যাংকের গুলশান শাখার কর্মকর্তা শামসুল হক শ্যামল (৩৪), রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জানে আলম মিলন (৩০), পূবালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান মিলন (৩৮) ও স্বপন।

পরের দিন পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসারসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগ। তারা হলেন- জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এমদাদুল হক খোকন, সোহেল রানা ও ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এবি জাহিদ।

ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির তত্ত্বাবধানে সমন্বিত পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছিল আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পরই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির আওতায় পাঁচ ব্যাংকের অফিসার (ক্যাশ) নিয়োগে এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার পর পরীক্ষার্থীদের অনেকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুললেও তা নাকচ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।



Side banner