• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০১:২০ পিএম
বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সপ্তাহান্তে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তাৎক্ষণিকভাবে কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের শঙ্কায় থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ৬৭ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ৬৭ দশমিক ৩৮ ডলারে নেমে আসে। একই দিন মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬১ সেন্ট বা ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬২ দশমিক ৯৪ ডলারে দাঁড়ায়।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, আগামী আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার তাৎক্ষণিক আশঙ্কা অনেকটাই কমে গেছে।
শুক্রবার ওমানে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইতিবাচক আলোচনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর ফলে চুক্তি না হলে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দিকে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করার পর।
 
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রফতানি হয়। ফলে ইরানসহ আঞ্চলিক উৎপাদকদের সরবরাহে সম্ভাব্য ব্যাঘাত নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন।
 
উত্তেজনা কিছুটা কমায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই-উভয় সূচকই ২ শতাংশের বেশি কমে, যা সাত সপ্তাহের মধ্যে প্রথম পতন। তবে শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানে হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানবে ইরান; যা দেখাচ্ছে যে সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি।
 
ফিলিপ নোভার সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেব বলেন, দ্বন্দ্বপূর্ণ বক্তব্য অব্যাহত থাকায় অস্থিরতা রয়ে গেছে। যেকোনো নেতিবাচক খবর এই সপ্তাহে তেলের দামে ঝুঁকিপূর্ণ প্রিমিয়াম আবার দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
 
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেল রফতানি থেকে আয় ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচেষ্টাও বাজারকে প্রভাবিত করছে। শুক্রবার ইউরোপীয় কমিশন রাশিয়ার সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রফতানিকে সহায়তা করে-এমন যেকোনো পরিষেবার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেয়।
 
ভারতের পরিশোধন কোম্পানিগুলো, যারা আগে রাশিয়ার সমুদ্রবাহিত অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল, তারা এপ্রিলে সরবরাহের জন্য নতুন কেনাকাটা থেকে সরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারা দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের বাণিজ্য থেকে দূরে থাকতে পারে, যা নয়াদিল্লিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে সহায়তা করতে পারে।
 
সচদেব বলেন, রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল থেকে এই বিচ্ছিন্নতা কতটা বিস্তৃত হবে, এপ্রিলের পরেও ভারতের কম ক্রয় অব্যাহত থাকবে কিনা এবং বিকল্প সরবরাহ কত দ্রুত বাজারে আসবে-এসব বিষয়েই তেলবাজার সংবেদনশীল থাকবে।


Side banner
Link copied!