২০২৬-২৭ করবর্ষের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আজ (২২ জুলাই) থেকে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে এবং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করদাতারা eTax পোর্টালে প্রবেশ করে নির্ধারিত তথ্য পূরণ, রিটার্ন প্রস্তুত এবং অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। রিটার্ন জমা সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদও সংগ্রহ করা যাবে।
অনলাইনে কর পরিশোধের ক্ষেত্রেও একাধিক সুবিধা রাখা হয়েছে। করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন।
তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি (প্রয়োজনীয় সনদ সাপেক্ষে), বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক, মৃত করদাতার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক চাইলে কাগজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এছাড়া প্রযুক্তিগত কারণে ই-রিটার্ন জমা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে কাগুজে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকবে।
এনবিআর জানিয়েছে, ২০২১ সালে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর থেকে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গত ২০২৫-২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেন।
এবার করদাতাদের জন্য নতুন প্রণোদনাও ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ করবর্ষে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর-সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেপ্টেম্বরের পর জমা দেওয়া রিটার্নে এই সুবিধা মিলবে না এবং ডিসেম্বরের পর রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :