ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের ভিডিওবার্তাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সালের সাম্প্রতিক ভিডিওবার্তা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ডিএমপি কমিশনার তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “ভিডিওটা নিয়ে এখন ‘নো-কমেন্টস’। আমরা এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। কারিগরি যাচাই ও তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেব।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে কমিশনার বলেন, ‘অনেকেই নিরাপত্তা চাচ্ছেন এবং আমরা তা দিচ্ছি। তবে আমাদের রিসোর্স ও সক্ষমতার দিকেও তাকাতে হচ্ছে।’ তিনি জানান, কোনো ব্যক্তির জীবননাশের ঝুঁকি থাকলে স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) মাধ্যমে তা যাচাই করা হয়। এসবির ইতিবাচক রিপোর্টের ভিত্তিতেই গানম্যান বা অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশনারদের নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।
তবে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সীমিত লোকবল দিয়ে সবদিকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়া এবং মাস্তানি-সন্ত্রাস দমন আমাদের এখনকার শীর্ষ অগ্রাধিকার। সব লোকবল যদি ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োগ করি, তবে ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ৪০ দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২১ বা ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে জটিলতা বাড়তে পারে। আমরা যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব হবে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের আপসহীন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কমিশনার বলেন, পেশাগত ক্ষেত্রে আমাকে বা আমার সহকর্মীদের ছাড় দেবেন না। তবে অনুরোধ থাকবে, কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা বাড়াবাড়ির কারণে যেন আমার সহকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
আপনার মতামত লিখুন :