যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্য তিন ব্যক্তি হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রের ভাষ্য, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি এবং সরকারি পণ্য ও সেবা কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ে। প্রাথমিকভাবে এসব অভিযোগের তথ্য যাচাইয়ের পরই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধান টিম মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়া, সরকারি ক্রয় কার্যক্রম এবং এসব সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে।
একই সঙ্গে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম বা অন্য কোনো দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।
দুদক সূত্রে আরও বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এগুলো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।
এর আগে আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা থাকাকালে তার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির, টেন্ডার বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে দুদক অনুসন্ধান করেছিল।
দীর্ঘ প্রায় ১১ মাসের অনুসন্ধান শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় ওই অনুসন্ধান শেষ করার কথা জানায় দুদক।
এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের আয় ও সম্পদের বিবরণ তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :