• ঢাকা
  • বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় এখনই পদক্ষেপ জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় এখনই পদক্ষেপ জরুরি: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু সংকটের প্রভাব মোকাবেলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক অগ্রগতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারলেই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কম কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, দূষণ কমিয়ে উৎপাদন এবং সবুজ কর্মসংস্থান বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নকে আরও টেকসই করা সম্ভব।

তার মতে, উন্নয়নের সব পর্যায়েই পরিবেশগত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রকৃতি, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগও নিশ্চিত করা জরুরি।

 

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। এর পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, হঠাৎ বন্যা, অনাবৃষ্টি, দাবদাহ ও খরার মতো দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

উপকূলীয় ও নিম্নভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে এসব পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবেলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৩-২০৫০ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০)-এর মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বল্প-নিঃসরণভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

 

মন্ত্রী বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগে পরিবেশ সুরক্ষা সম্ভব নয়; সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন। একটি নিরাপদ, সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পলিথিনের ব্যবহার কমানো, শব্দদূষণ রোধ, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ, বৃক্ষরোপণ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তাদের সচেতন করার আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আর দূরবর্তী কোনো আশঙ্কা নয়, এটি বাস্তব হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বেড়েছে এবং এর প্রভাব এখন কেবল হাওর বা নিচু এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই; পাহাড়ি এলাকাতেও বন্যা দেখা যাচ্ছে। কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কবার্তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া সেরা স্টলগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।


Side banner
Link copied!