শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি ফাঁড়িতে চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে ফাড়ির ইনচার্জ এর নির্দেশক্রমে সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান এর কর্মতৎপরতায় চোরচক্রের ৫ সদস্যকে শৌলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে । গত ২২ আগস্ট ২০২৬ শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গয়ঘর এলাকার খলিফা কান্দিতে মৃত নূর হোসেন শেখের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। সরে জমিন ঘুরে স্থানীয় সূত্রে পাওয়া যায়, নূর হোসেন শেখের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জয়গুন নেসা বাড়িতে একা বসবাস করে এবং তার পুত্র সন্তানেরা জীবন জীবিকার কারণে ঢাকায় বসবাস করেন। গত ২২ আগস্ট জয়গুন নেসা (৬০) বাড়িতে না থাকার কারণে চোরচক্রের পাঁচ সদস্য শিবলু খান (৫০), সাগর(৩০) , সুমন(৩২), আতাহার(৪৫) এবং রুবেল(৪২) গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে ঘরের আলমারি ভেঙ্গে গলার হার, চেইন, কানের দুল এবং আংটি সহ আট ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির ঘটনা জানতে পেরে গত ২৩ আগস্ট জয়গুন নেছা তার পুত্রদের সাথে পরামর্শ করে চিকন্দি ফাঁড়িতে বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে চিকন্দি ফাঁড়িতে দায়িত্বরত অত্যন্ত চৌকস ও দক্ষ সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান তার সঙ্গীয় পুলিশের একটি টিম নিয়ে অভিযান চালিয়ে শোলপড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে একে একে চোর চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত চোরের সদস্যরা হলেন শোলপড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা।
চিকুন্দি ফাড়ির সাব ইন্সপেক্টর মোঃ মাহমুদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, জয়গুন নেসা নামে এক নারী আমাদের চিকন্দি পুলিশ ফাঁড়িতে এসে চুরির একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করার জন্য সরজমিনে যাই। এবং জয়গুন নেসার পুত্র মিজান শেখের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে একটি সূত্র ধরে আমাদের কৌশল অবলম্বন করে চোরের মূল হোতা সহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।চোরের মূল হোতা আতাহারের কাছ থেকে সুকৌশলে জানতে পেরেছি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে এবং আড়াই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের হার শিবলু খানের নিকট এক লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। আইনে বলা আছে চুরি যাওয়া মালামাল যে ক্রয় করবে বাংলাদেশ পেনাল কোড ৪৪১ ধারায় সাত বছর কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সুবাদে শিবলু খান কে গ্রেফতার করেছি। গ্রেফতারকৃত চোরের পাঁচ সদস্যকে চিকন্দি ফাঁড়ি থেকে পালং মডেল থানায় পাঠিয়েছি।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শোলপাড়া ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা শিবলু খান দীর্ঘ দিন যাবত চুরি, ছিনতাই রাহাজানি মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও শিবলু খানের রাতের অন্ধকারের একটি বাহিনী রয়েছে। রাতের বাহিনীর সদস্যরা তাদের চুরি করা মালামাল অল্প দামে শিবলু খান ক্রয় করেন।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলম বলেন, চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে চিকন্দি ফাঁড়ির পুলিশ চুরির ঘটনার সাথে যারা প্রকৃত জড়িত ছিল তাদেরকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। চলমান নিয়মিত আইনে মামলা হয়েছে। আসামিদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :