রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও সন্দেহ কাজ করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার সিয়াম চার বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা এবং অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সন্দেহে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে—এমনটাই দাবি তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। তিনি জানান, বুধবার রাতে হাজারীবাগের একটি গলিতে দুজনকে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে প্রথমে তাদের স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা গেলেও একপর্যায়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
পুলিশের ভাষ্য, সিয়াম ওই সময় বিন্তিকে অন্য এক তরুণের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং কিছু ছবি দেখায়। বাকবিতণ্ডা চরমে পৌঁছালে সে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে বিন্তিকে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সাত থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে কলাবাগান এলাকা থেকে সিয়ামকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে রক্তমাখা ছুরি ও একটি গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম দীর্ঘ চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছে বলে জানান ডিসি মাসুদ আলম। তার দাবি, বিন্তি তাকে এড়িয়ে চলছিল এবং অন্য সম্পর্কে জড়িয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই সে হত্যার পরিকল্পনা করে।
তবে নিহতের পরিবার বলছে, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে বিন্তিকে উত্ত্যক্ত করছিল; এটি প্রেমের সম্পর্ক নয়, বরং প্রত্যাখ্যান ও হয়রানির ফল। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভিতে তাদের আগে থেকেই পরিচিত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের অন্য কোনো অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাজারীবাগ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে অতিরিক্ত কোনো কারণ আছে কি না—তা নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :