
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর ইউনিয়ন ভূমি অফিস যেন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হয়রানি এবং প্রতারণার একের পর এক অভিযোগ উঠছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, এই অফিসে সরকারি সেবা পেতে হলে নির্ধারিত ফি নয়, বরং দিতে হয় অতিরিক্ত ঘুষ—যা প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল লতিফ পুরো ভূমি অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। জমির মাঠপর্চা, মিউটেশন কিংবা খাজনা—সব ক্ষেত্রেই তার সিন্ডিকেট বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যে। মাঠপর্চার জন্য দিতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা, অথচ সরকারি নিয়মে কোনো বাড়তি ফি নেই। সবচেয়ে বড় দুর্নীতির খাত হচ্ছে জমির মিউটেশন ও খাজনা আদায়। সরকারি নির্ধারিত মিউটেশন ফি যেখানে ১১৭৫ টাকা, সেখানে কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ নানা অজুহাতে জমির মালিকদের কাছ থেকে আদায় করছেন ১০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এমনকি মাত্র ১০ টাকার খাজনা দিতে গুনতে হচ্ছে দুই থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।
এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে কম ঘুষ দিলে বারবার ঘুরতে হয়, বেশি ঘুষ দিলেই দ্রুত কাজ হয়ে যায়। আমি বাড়ির জমির খাজনা দিতে এসে দেখি রশিদে লেখা টাকার চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে।”
আরেকজন জানান, “দুই মাস আগে আমি ১৫০ টাকার খাজনার জন্য গেলে কর্মকর্তা আমাকে ২ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করেন। এ যেন সেবার নামে প্রকাশ্য ডাকাতি।”
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে কর্মকর্তারা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ‘চুক্তি’ করে নামজারির জন্য মোটা অঙ্কের ঘুষ নেন। এসব টাকা বিভিন্ন ধাপে উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ভাগে যায় বলে জানানো হয়েছে। ফলে, সাধারণ মানুষ নিরুপায় হয়ে কর্মকর্তাদের ফাঁদে পড়ে লাখ লাখ টাকা গচ্ছা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ব্যাপারে জানতে তহশিলদার আব্দুল লতিফের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি ।
স্থানীয়রা বলছেন,সেবা নয়, যেন প্রতারণা আর ঘুষের রাজত্ব চলছে সেখানে। শ্রীপুর পৌর ভূমি অফিসের দুর্নীতি রোধে এবং সরকারি সেবার মান ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।এখন চরমে পৌঁছেছে।
আপনার মতামত লিখুন :