• ঢাকা
  • রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দেবীদ্বারে নারী হত্যার পর লাশ ৯ প্যাকেটে, ভাড়াটিয়া আটক


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
দেবীদ্বারে নারী হত্যার পর লাশ ৯ প্যাকেটে, ভাড়াটিয়া আটক

কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক নারীকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে মোড়ানো নয়টি প্যাকেটে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাড়ির পেছন থেকে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক ভাড়াটিয়াকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি আরও চারজনের নাম জানিয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো যাচাই করছে পুলিশ।

প্রাথমিকভাবে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ছোট আলমপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে কর্মরত। তাঁদের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন।

যেভাবে মিলল মরদেহ

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকালে ফরিদার ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে আসেন। মাকে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে সন্ধ্যার দিকে ফরিদার বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে কয়েকটি পলিথিনের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় কাছে গিয়ে তিনি ভেতরে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। পরে ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ফরিদার বাড়ির একটি টিনের ঘর প্রায় ১৫ দিন আগে লাইলী আক্তারকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তিনি স্বামী আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে সেখানে বসবাস করছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং রবিউল, সোহেল ও ইমন নামে আরও তিনজনের নাম বলেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত মরদেহের পলিথিনে মোড়ানো নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহের মাথা ও পায়ের অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ঘটনাটির কারণ, হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লুটপাটের অভিযোগসহ বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া আলামত পরীক্ষা ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।


Side banner
Link copied!