ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে যাত্রীবাহী জাহাজ ভিরগো ট্রান্সপোর্ট ৮ উল্টে যাওয়ার ঘটনায় এখনো ১২৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির উদ্ধার সংস্থা। ইতোমধ্যে ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাত্রা করা জাহাজটির সঙ্গে একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জাহাজটিতে ২৪৩ জন ছিলেন, যার মধ্যে ৩০ জন ক্রু সদস্য।
সোমবারও দুর্ঘটনাস্থলে সাগর ছিল উত্তাল। প্রবল বাতাস ও প্রায় তিন মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের কারণে উদ্ধারকারীদের জাহাজটির কাছে পৌঁছানো এবং ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে ৬০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী, ১৭টি জাহাজ এবং পাঁচটি হেলিকপ্টার ও বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে পানির নিচে তল্লাশি চালাতে বিশেষজ্ঞ দলও কাজে নামানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
দুর্ঘটনাস্থল বানজারমাসিনের ত্রিসক্তি বন্দর থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগলেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সময় আরও বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে তীব্র ঢেউ ও খারাপ আবহাওয়াকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে জাহাজটি কেন উল্টে গেল, তার চূড়ান্ত কারণ এখনো তদন্তাধীন।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ৫০০ যাত্রী। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে—এমন ধারণার সঙ্গে প্রাথমিক তথ্য মিলছে না।
ইন্দোনেশিয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতে ফেরি ও নৌযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ থাকায় সমুদ্রপথে যাতায়াত তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব নৌযানের ওপর নির্ভর করেন।
দুর্ঘটনার পর বানজারমাসিনে নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনেরা উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানেই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
আপনার মতামত লিখুন :