• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ১ হাজার ৫০০


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ১ হাজার ৫০০

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও কাদাপাথরের স্রোতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ দেশের অন্তত ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত এই দুর্যোগে ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমালয় অঞ্চলের একটি নদীতে কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। নেপালের পাশাপাশি তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেপালে এখন পর্যন্ত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি নাগরিক।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন। আরও বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।

হিমালয়ভিত্তিক একটি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য, তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তীর্থযাত্রায় থাকা ১৫ জন ভারতীয়-অস্ট্রেলীয় নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবরগামী বহু তীর্থযাত্রী ও পর্যটক ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ কারণে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পর্যটক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্গতদের কাছে খাবার, তাঁবু ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

নেপাল সেনাবাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবেশী ভারত থেকেও তাঁবু, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

 

দুর্যোগের মাত্রা বোঝাতে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় পানি ও ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত মানুষ ও স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নেপালের দিকে বহু বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লাসা ও কাঠমান্ডুকে সংযোগকারী এই পার্বত্য অঞ্চল পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দুর্যোগের ফলে যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

 

প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে গিয়ে বন্যা সৃষ্টি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত কম্পনটি প্রকৃতপক্ষে হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে তৈরি শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অর্থাৎ আকস্মিক বন্যার পেছনে পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও ধ্বংসাবশেষের ধস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিরং এলাকায় একটি বাঁধের পেছনে থাকা হ্রদ থেকে এখনো ঝুঁকি রয়েছে। বন্যা ও কাদাধসে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্ত এলাকার উজানে এর অবস্থান হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এ কারণে উদ্ধারকারী দলকে একদিকে নিখোঁজদের সন্ধান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন করে পানির প্রবল স্রোত বা ধসের আশঙ্কাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।


Side banner
Link copied!