নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে পৌঁছেছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দেশটির পুলিশ নতুন করে আরও ৩৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করার পর এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ২ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে চলা বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু মানুষ বিভিন্ন এলাকায় আটকা পড়েছেন। একই সঙ্গে সড়ক, যোগাযোগব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগের পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল। ইতোমধ্যে শত শত মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তাদের অনেকেই ট্রেকিং, পর্যটন কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে দুর্গম পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
নেপালের নুওয়াকোট জেলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দুর্যোগের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, কাদা ও ধ্বংসাবশেষে বহু ঘরবাড়ি ও সড়ক ঢেকে গেছে। কোথাও গাছের সঙ্গে ঝুলে আছে ধ্বংসস্তূপ, আবার কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে হতবিহ্বল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
দুর্যোগে আহত ও অসুস্থদের একটি অংশকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে এনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কয়েক ডজন মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় নেপালের মন্ত্রীরা তাদের এক মাসের বেতন প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :