• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২

বরিশাল কর বিভাগে ‘ঘুসের সাম্রাজ্য’! কম্পিউটার অপারেটর সানজিদার সম্পদের পাহাড়


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
বরিশাল কর বিভাগে ‘ঘুসের সাম্রাজ্য’! কম্পিউটার অপারেটর সানজিদার সম্পদের পাহাড়

বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মিজ সানজিদা শারমিন ওরফে লাভলীকে ঘিরে উঠেছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ঘুস বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ। সীমিত বেতনের সরকারি চাকরি করেও ব্যক্তিগত গাড়িতে অফিস যাতায়াত, বিলাসী জীবনযাপন এবং কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ায় কর বিভাগের ভেতরেই ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সানজিদা শারমিন প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের লেটেস্ট মডেলের একটি প্রিমিও গাড়িতে চলাচল করেন। কীভাবে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হলেন—সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি তার নামে ও বেনামে জমি, ফ্ল্যাট, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যা তার প্রায় ২০ বছরের চাকরিজীবনের বৈধ আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অপর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ঘুসের বিনিময়ে কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ফাইল ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ঢিল’ করে রাখা ছিল সানজিদা শারমিনের নিয়মিত কাজ। কর অঞ্চলের ভেতরে তিনি ‘ঘুসের রানী’ হিসেবেও পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি দুই হাতে অর্থ কামিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।

কর অফিসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“সানজিদা শারমিন একজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী। তার বিরুদ্ধে কর অফিসের গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগও রয়েছে। এত ছোট চাকরি করে এত বিশাল সম্পদের মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং কর বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(ঘ) ধারায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় কর বিভাগের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সানজিদা শারমিনের অক্সফোর্ড মিশন রোডের ব্যয়বহুল ফ্ল্যাট, বিলাসী গাড়ি ও নামে–বেনামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য নিয়ে বরিশাল কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে কোনো সদ উত্তর পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতিবিরোধী সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনা হোক। তা না হলে কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে গুরুতর আস্থাহীনতা তৈরি হবে।


Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Link copied!