ইউনিয়ন ভূমি অফিসের একজন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব)—পদমর্যাদায় নিচের সারিতে থাকলেও সম্পদ অর্জনের দৌড়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের নায়েব আব্দুল আলিম দেওয়ানের নামে রাজধানী ঢাকা, কেরানীগঞ্জ ও নিজ গ্রামে অন্তত ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকার সম্পদের নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এই বিপুল সম্পদের তথ্য স্থানীয় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের একাধিক মৌজায় তার নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জমি ও স্থাপনা। উল্লেখযোগ্য হোল্ডিংগুলোর মধ্যে রয়েছে—আজিমনগর ইউনিয়নের হোল্ডিং নম্বর ৯৮৩, ৯১৪, ৫০৫ ও ১৫০৫, দিঘারী মৌজার হোল্ডিং-১১৪, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণ মৌজার হোল্ডিং-১০১৯, গিলন্ড মৌজার হোল্ডিং-২৬৮, বেটিলা মৌজার হোল্ডিং-৫৮০ এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার গদারবাগ মৌজার হোল্ডিং-২৫০১।
এছাড়াও রাজধানী ঢাকায় তার নামে রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট, পাশাপাশি স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জমা থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
আব্দুল আলিম দেওয়ান হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং লাল মিয়ার ছেলে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। বর্তমানে তিনি একই ইউনিয়নে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানায়, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল আলিম দেওয়ান নিষিদ্ধ ঘোষিত সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার সুবাদে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা—কার্যক্রমে নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমেই তিনি এই বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের নায়েব যদি এভাবে শতকোটি টাকার কাছাকাছি সম্পদের মালিক হন, তাহলে সাধারণ মানুষের ভূমি অফিসে ন্যায্য সেবা পাওয়ার আশা কোথায়?”
তাদের মতে, এই ঘটনা কেবল একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত দুর্নীতির চিত্র নয়; বরং ভূমি প্রশাসনের দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাবের নগ্ন প্রতিফলন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে,ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল আলিম দেওয়ান সদ উত্ত না দিয়ে তিনি বলেন,ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা ও বড় বড় সাংবাদিকদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক আছে ।
একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষ থেকে সংবাদকর্মীর উদ্দেশে এ ধরনের বক্তব্য তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের জোর দাবি—আব্দুল আলিম দেওয়ানের সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক লেনদেন, আয়কর নথি এবং ভূমি সংক্রান্ত সব ফাইল ও সিদ্ধান্ত দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :