ইতালির বহুল আলোচিত কাজের ভিসা কেলেঙ্কারিতে জড়িত দুই বাংলাদেশি দালাল আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। রায়ে নজরুল ইসলামকে ৪ বছর ৮ মাস এবং কাজি শামিমকে ৪ বছর ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ায় সাজা নিশ্চিত হয়।
তদন্তে একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। ইতালিতে কাজের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে জনপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত আদায় করা হতো। ‘নুল্লা ওস্তা’ সংগ্রহে অসাধু নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে এসেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিলাসবহুল উপহার দেওয়ার বিষয়েও তথ্য পাওয়া গেছে।
নজরুল ইসলামের জবানবন্দিতে দাবি করা হয়েছে, ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাসের এক কর্মীর কাছে ভিসা অনুমোদনের জন্য বড় অঙ্কের ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। একাধিক ভিসা অনুমোদনের জন্য মোটা অঙ্কের চুক্তির কথাও আদালতে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
এ মামলার সূত্রপাত ঘটে যখন ইতালির সংসদ সদস্য আন্দ্রেয়া দি জুসেপ্পে-কে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে তদন্ত শুরু হয় এবং চক্রটির কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসে।
দুই বাংলাদেশির সাজা ঘোষণা হলেও সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কর্মকর্তা ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত এখনো চলমান। ইতালির বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের উদাহরণ হিসেবে মামলাটি আলোচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা প্রবাসপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা। অবৈধ দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভিসা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। বৈধ ও সরকারি পদ্ধতিতেই আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :