রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার হত্যা ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২০ মে) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
জামায়াত আমির তার পোস্টে লিখেছেন, “প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে আজ মানবতা লজ্জিত। তুমি ছিলে নিষ্পাপ, কোমল এক শিশু। তুমি এখনো পুরোপুরি ফুটে ওঠার আগেই নিষ্ঠুরতার শিকার হলে। তুমি ছিলে তোমার পরিবারে ভালোবাসা, স্বপ্ন ও আশার প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “তোমার চলে যাওয়া কোনো হিংস্র মানুষের লালসার বিজয় নয়। বরং সেই নরপশুই চিরকাল মানুষের ঘৃণা ও লানতের পাত্র হয়ে থাকবে।”
ডা. শফিকুর রহমান এ হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমরা এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চাই। হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
একই সঙ্গে নিহত শিশুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি রামিসার পরিবারকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসার খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার বিচ্ছিন্ন মাথা। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত রামিসা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সব দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :