সারা দেশে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলা হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ বিষয়ে সরকারের ব্যর্থতার তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করেন।
রিটে বলা হয়েছে, হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং এ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা ও ব্যর্থতা তদন্তে কেন একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না—তা জানতে চেয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী রোববার (২৪ মে) হাইকোর্টে এ রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
দেশজুড়ে হামের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিষয়টি এখন জনস্বাস্থ্যের বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাম ও এর জটিল উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চারশ’ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধলাখ ছাড়িয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিয়েও তৈরি হয়েছে চরম সংকট। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংকট, আইসিইউ স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেও রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন স্বজনরা।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যখাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গত দুই সপ্তাহে একাধিক রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতালগুলোতে বিশেষ চিকিৎসা ইউনিট চালু, টিকা কার্যক্রম জোরদার এবং আক্রান্ত শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিও উঠে এসেছে।
আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, “হাম পরিস্থিতি এখন জাতীয় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
এদিকে, হামের বিস্তার ঠেকাতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আপনার মতামত লিখুন :