• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুর্নীতিমুক্ত ভূমি সেবায় নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম
দুর্নীতিমুক্ত ভূমি সেবায় নতুন বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দুর্নীতিমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণকে সেবা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব এবং সেই সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা, দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ ছিল। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সরকার ভূমি খাতকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন ভূমি সংক্রান্ত সেবা ধীরে ধীরে অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমছে এবং সেবাপ্রাপ্তি সহজ হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে একজন নাগরিককে আর জমির কাগজপত্র নিয়ে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হবে না। মানুষ যেন দ্রুত, সহজ এবং স্বচ্ছ উপায়ে সেবা পায়, সেটিই সরকারের অঙ্গীকার।”

তারেক রহমান আরও বলেন, অতীতে একটি জমির মালিক একজন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরাধিকার ও ভাগাভাগির কারণে এখন একই জমির মালিকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কাজও আগের তুলনায় জটিল হয়েছে। এ বাস্তবতায় নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, খতিয়ান, দাগ, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর—এসব বিষয় নিয়ে মানুষকে আগে বারবার ভূমি অফিসে যেতে হতো। এখন ডিজিটাল সেবা চালুর মাধ্যমে এসব প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। এতে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যাতে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড তৈরি করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “জমি শুধু সম্পদ নয়, এটি মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।”

ভূমি বিরোধ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন আদালতে ৪৭ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার বড় একটি অংশ জমিজমা সংক্রান্ত। এ পরিস্থিতিতে আদালতের পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি যেমন গ্রাম আদালত, সালিশ ও এডিআর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে একদিকে মামলার জট কমবে, অন্যদিকে সামাজিক সম্পর্কও নষ্ট হবে না। এ সময় তিনি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি উক্তি তুলে ধরে বলেন, “শক্তি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তা সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ ও জটিলতাও বাড়ছে। তাই ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। আজ সারাদেশে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরই অংশ।

তিন দিনব্যাপী এই মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভূমি সংক্রান্ত আধুনিক সেবা সম্পর্কে সচেতন হবে এবং ঘরে বসেই অধিকাংশ সেবা গ্রহণে উৎসাহিত হবে।


Side banner
Link copied!