• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঠিকাদারি কাজে দুর্নীতির অভিযোগ, আলোচনায় গ্রীন কন্সট্রাকশন


FavIcon
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ঠিকাদারি কাজে দুর্নীতির অভিযোগ, আলোচনায় গ্রীন কন্সট্রাকশন

সুনামগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে গ্রীন কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশল অফিস সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে উজ্জল মিয়া জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানো এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি কাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা।

স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, সরকারি দরপত্রে অংশ নিতে গেলেই নানা ধরনের চাপ ও বাধার মুখে পড়তে হতো। অনেক ক্ষেত্রে “ম্যানেজড টেন্ডার” এর মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করা হতো কোন প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই কাজ চলে যেত গ্রীন কন্সট্রাকশনের হাতে।

একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পন্ন দেখিয়ে বিল গ্রহণ এবং প্রকল্পের মান বজায় না রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে পানির লাইন স্থাপন, টিউবওয়েল বসানো, পাইপলাইন নির্মাণ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ বেশি পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, অনেক প্রকল্প কয়েক মাস যেতে না যেতেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “কাগজে-কলমে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক প্রকল্পের কাজ খুবই নিম্নমানের। কিছু জায়গায় পাইপলাইন বসানোর পর অল্প সময়েই তা অকেজো হয়ে গেছে।”

অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের মতে, অফিসের ভেতরে একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় বছরের পর বছর এসব অনিয়ম চলতে পেরেছে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে জনগণের অর্থ অপচয় বন্ধ করা সম্ভব নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে শুধু টেন্ডার কারসাজিই নয়, সরকারি অর্থ লুটপাটের আরও বড় চিত্র সামনে আসতে পারে।

তবে গ্রীন কন্সট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী উজ্জল মিয়ার বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।


Side banner

অপরাধ বিভাগের আরো খবর

Link copied!