• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

মহা দুর্নীতিবাজ কর অঞ্চল ১০-এর নাজির মিরাজ ইবনে মাহবুব


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
মহা দুর্নীতিবাজ কর অঞ্চল ১০-এর নাজির মিরাজ ইবনে মাহবুব

কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখাকে যেন ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন নাজির মিরাজ ইবনে মাহবুব—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ, কমিশন বাণিজ্য এবং দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, কর অঞ্চল ১০-এ বিভিন্ন কাজের বরাদ্দ ও বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মিরাজ ইবনে মাহবুব। নিজের পছন্দের লোকজনকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন নেওয়া তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি নিজের অফিসের এক সহকর্মীর স্ত্রীর নামে ট্রেড লাইসেন্স করে একাধিক বিল-ভাউচার নিজেই উত্তোলন করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফাইল টেম্পার করে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করার মাধ্যমেও তিনি অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করেছেন। এসব অনিয়মের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তিনি কোটিপতি বনে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কর অঞ্চল ১০-এর নাজির শাখায় গেলে অনেকেরই মনে হয় তিনি যেন প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তা—এমনভাবেই নিজের দপ্তরকে আলিশানভাবে সাজিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, একসময় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তার করতেন মিরাজ ইবনে মাহবুব। রাজস্ব খাতে বিভিন্ন আন্দোলনেও অর্থ লগ্নির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টানা প্রায় চল্লিশ দিন আন্দোলনে প্রতিদিন গাড়িভর্তি লোক নিয়ে সেগুনবাগিচা থেকে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। ওই আন্দোলনে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হলেও অজ্ঞাত কারণে মিরাজ ইবনে মাহবুব এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজস্ব বিভাগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কর অঞ্চল ১০-এ কোনো কাজ করতে গেলেই অর্থ বা কমিশন দিতে হয়—এমন অভিযোগ প্রায় সবার মুখে মুখে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গাজীপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তিনি আলিশান বাড়ি নির্মাণ এবং একাধিক জায়গা ক্রয় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, কর অঞ্চল ১০-এর কমিশনারের কার্যালয়ের নাজির শাখা আয়কর আদায়, ক্যাশ বা ট্রেজারি চালান রক্ষণাবেক্ষণ, করদাতাদের কাছ থেকে কর জমা গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল আর্থিক দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ শাখাটিই ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে নাজির মিরাজ ইবনে মাহবুবের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মিরাজ ইবনে মাহবুব কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনুসন্ধান নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্ব প্রকাশ করা হবে।


Side banner
Link copied!