দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি।
রোববার (৫ জুলাই) স্বল্প ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় উপযোগী প্রযুক্তি নিয়ে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবকদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানো গেলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসা খাতে ব্যবহৃত অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের জন্য এখনো বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সাধারণ কাঁচি থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসা ও প্যাথলজি সরঞ্জাম আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের দক্ষতার কোনো অভাব নেই। তবে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার অভাবে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন বাস্তবায়নের সুযোগ পাচ্ছে না। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ ধরনের জুতা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অনেক বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতার সঙ্গে কাজ করলেও দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য আরও কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সুস্থ জনগোষ্ঠী ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্লাজমা লিকেজ। এজন্য আক্রান্ত রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী সীমিত জনবল নিয়েও দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন :