রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশ মিলিয়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন শিশুও রয়েছে। একই সময়ে পূর্ব ইউক্রেনের আরও দুটি বসতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেনে পৃথক হামলায় উভয় পক্ষেই ১১ জন করে মোট ২২ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাসনোদার অঞ্চলে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি পর্যটন এলাকায় পড়ে সাতজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। এছাড়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত এবং দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ জেলায় একটি পেট্রোলপাম্পে হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি সেবাকর্মী ও তার আট বছর বয়সী সন্তান রয়েছেন। হামলার পর সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এছাড়া জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতভর চালানো আরেক হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উসপেনিভকা নামে দুটি বসতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে ইউক্রেন এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে রাশিয়ার একটি বড় অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী সরবরাহে ভূমিকা রাখছে।
এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে ওয়াশিংটনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্স নিয়ে আগের অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :