তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে মে মাস থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ তাপজনিত বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতির কারণে রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (২ আগস্ট) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এটি দেশটির ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিউলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায় এবং আগামী কয়েক দিনও ৩৭ ডিগ্রির আশপাশে থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দেওয়া এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, চরম আবহাওয়া এখন দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে, তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও স্থায়ী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে সিউল সিটি প্রশাসন বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া শহরের তাপমাত্রা কমাতে প্রতিদিন শতাধিক পানিবাহী ট্রাক দিয়ে সড়কে পানি ছিটানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা (মিস্ট) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
এদিকে উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়, সরাসরি সূর্যের তাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাসের কারণে এই তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথও আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :