• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

গাজায় প্রতিরাতে ৩০-৪০ জন হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
গাজায় প্রতিরাতে ৩০-৪০ জন হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের

গাজায় প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থি রাজনীতিক ইতামার বেন-গভির। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) প্রকাশিত এক পডকাস্টে তিনি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার পক্ষে বক্তব্য দেন। তাঁর মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

সাবেক ইসরায়েলি বন্দি রম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির বলেন, গাজায় হামলা কেবল তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তিনি প্রতিদিন রাতে কয়েক ডজন মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পক্ষে মত দেন।

 

আলাপচারিতায় বেন-গভির গাজার বাসিন্দাদের জীবন ও মানবিক মর্যাদা নিয়েও চরম বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান জানান এবং সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের সমর্থন করেন।

এ ধরনের অবস্থান বেন-গভিরের জন্য নতুন নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাজায় কঠোর সামরিক ব্যবস্থা, ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যাওয়া এবং ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

 

বেন-গভির ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য হলেও দেশটির সামরিক বাহিনীকে সরাসরি হামলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। তবে নিরাপত্তা ও যুদ্ধসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ইসরায়েলি হামলার মাত্রা কমানোর উদ্যোগেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার পরিধি আরও বাড়ানো এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

 

পডকাস্টে ব্রাসলাভস্কি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে বেন-গভির তাকে এ ধরনের সুযোগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করার কথা জানান।

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে আচরণ এবং বন্দিদের অধিকার নিয়ে বেন-গভির এর আগেও আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

 

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলা ও হতাহতের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

এদিকে গাজা যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে মিসরসহ আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে অবস্থান ধরে রেখেছেন।

 

গাজা থেকে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের আহ্বান আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বেন-গভিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

গাজা যুদ্ধের অবসান ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন ইসরায়েলি সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এমন বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।


Side banner
Link copied!