জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব শরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করেছে প্রতারক চক্র। ওই জাল অফিস আদেশে মো. রেদুয়ান আহম্মেদ নামে এক ব্যক্তিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের নজরে আসা ভুয়া অফিস আদেশটিতে ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, জনবল সংকট মোকাবিলায় বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শূন্য পদে একজনকে সরকারি বিধি অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জাল আদেশে বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা বেতন নির্ধারণ এবং ১১ আগস্ট থেকে নিয়োগ কার্যকর হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এমন কোনো নিয়োগপত্র বা অফিস আদেশ জারি করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন উপসচিব শরিফুল ইসলাম।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং নির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই ছাড়া সরাসরি জনবল নিয়োগের সুযোগ নেই। ফলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে তা প্রতারণার অংশ হতে পারে।
ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রতারক চক্র—এমন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিপ্রার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চাকরির আশ্বাসে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন কিংবা চুক্তি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়মিতভাবে মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করা হয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধাপের তথ্য প্রার্থীদের মোবাইল এসএমএস এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হয়। তাই চাকরিপ্রার্থীদের কোনো নিয়োগসংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর তা যাচাই না করে অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ ও চাকরিসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রার্থীদের নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইট অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :