নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্তকে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট ২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—অনিক, আকাশ ও চান্ডি বাবু। রায় ঘোষণার সময় তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ওয়াজেদ সীমান্ত আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন তিনি। সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় মিন্নত আলী শাহ সাহেবের মাজারের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন সীমান্ত।
এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ছিনতাইয়ের একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে সীমান্তের মৃত্যু হয়।
নিহত ওয়াজেদ সীমান্ত নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার মো. আলম পারভেজের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যা ও মাদকসহ আগের একাধিক মামলা থাকার তথ্যও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সীমান্ত হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তিন আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় এলো। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ সাজা ঘোষণা করেছেন।
তবে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় রায়টির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে।
আপনার মতামত লিখুন :