দেশের ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও বিশেষ ভাতার আওতায় আনতে বছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। এ সুবিধার আওতায় রেল, বিমান ও সড়কপথে যাতায়াতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ পাবেন নির্বাচিত ক্রীড়াবিদরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) এক মতবিনিময় সভার শুরুতে এ তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি জানান, এরই মধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে। পারফরম্যান্স পর্যালোচনার পর সুবিধাভোগীদের তালিকায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ভিত্তিতে বর্তমান তালিকা থেকে ৩১ জনকে ভাতা সুবিধার বাইরে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন করে ৯৫ জন ক্রীড়াবিদকে তালিকায় যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে যোগ্য ও ধারাবাহিকভাবে ভালো করা ক্রীড়াবিদদের সরকারি সহায়তার আওতায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রীড়া কার্ডধারীরা রেল, বিমান ও সড়কপথে বিশেষ সুবিধা পাবেন। জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদদের জন্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পর্যায়ক্রমে নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সম্প্রতি এশিয়ান গেমস ও ফুটবলে বাংলাদেশের সামগ্রিক ফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় ক্রীড়া অঙ্গনে হতাশা তৈরি হলেও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। তার মতে, প্রাথমিক ফলাফল হতাশাজনক হলেও ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) একটি মূল্যায়ন কমিটিকে সাম্প্রতিক ক্রীড়া কার্যক্রম ও ফলাফল পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে ক্রীড়াবিদদের আর্থিক ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানো এবং ভালো পারফরম্যান্স করা খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। এখন নতুন তালিকায় যুক্ত হওয়া ৯৫ জনসহ মোট ৫০০ ক্রীড়াবিদ কীভাবে এ সুবিধা পাবেন, সেটিই হবে পরবর্তী বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আপনার মতামত লিখুন :