• ঢাকা
  • শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ইয়েমেন সরকারকে চার দফায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে পাকিস্তান


FavIcon
আন্তর্জাতিক ডেক্স :
প্রকাশিত: অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
ইয়েমেন সরকারকে চার দফায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে পাকিস্তান

ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে গত মাসে চারটি কার্গো বিমানে সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে পাকিস্তান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে এসব সরঞ্জাম ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে পৌঁছায়।

পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, পাঠানো সরঞ্জামের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি রয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি সামরিক সদস্যদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনে হুতি বাহিনীর সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘাত নতুন করে বেড়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানের এই সামরিক সহায়তার তথ্য সামনে এলো। সৌদি আরব হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পরিকল্পিত অভিযানে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থলভাগে নেতৃত্ব দেবে এবং সৌদি বাহিনী বিমান সহায়তা দেবে। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছে। তবে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধরত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি।

ইয়েমেনের পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে আরও উত্তপ্ত হয়েছে। হুতিরা লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তায়েজসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ বেড়েছে। শুক্রবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার তায়েজ প্রদেশে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২০টি বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিয়ে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিদের অগ্রযাত্রার কারণে ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নতুন করে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও সাম্প্রতিক সময়ে জোরদার হয়েছে। গত আগস্টে তিন দেশ একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। সেপ্টেম্বরে তিন দেশের সামরিক প্রধানরা রিয়াদে বৈঠক করে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, হুতিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যোগাযোগের বিষয়ে ইরানের একটি প্রস্তাব নিয়ে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে জরুরি আলোচনা হতে পারে। ফলে ইয়েমেনের সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও আলোচনায় রয়েছে।

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় মানবিক পরিস্থিতিও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই বহু পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে এবং নতুন করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।


Side banner
Link copied!