মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় পানামাসহ নয়টি দেশের উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে শুক্রবার বিকেলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ভূমিকম্পে দেশটির কয়েকটি এলাকায় সড়ক ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পানামার পিতালোসা আরিবা এলাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ দশমিক ৬ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। পরে দেশটিতে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে রাজধানী পানামা সিটিসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। ভবন কেঁপে উঠলে আতঙ্কিত মানুষজন ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন। শক্তিশালী এই কম্পনের পর বেশ কয়েকটি এলাকায় ভবন ও সড়কের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো ভূমিকম্পটিকে বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।
জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা পরিষেবার কর্মকর্তা ওমর স্মিথের তথ্য অনুযায়ী, পানামার ভেরাগুয়াস, হেরেরা ও লস সান্তোস প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। এসব এলাকায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। একটি জেলার প্রধান চত্বরে অবস্থিত ক্যাথেড্রালের কিছু অংশ ধসে পড়েছে এবং ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া গভর্নরের কার্যালয় ও দোস কন্টিনেন্তেস হোটেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লস সান্তোস প্রদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা সান আতানাসিও গির্জাটিও ধসে পড়েছে। ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর এই গির্জাকে ১৯৩৮ সালে জাতীয় ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি বিবেচনায় পানামা ও আশপাশের কয়েকটি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়। পরে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। ভূমিকম্পের পরবর্তী পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আপনার মতামত লিখুন :