• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ


FavIcon
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই এখন জোরদার করা হয়েছে। সব ধাপ সন্তোষজনকভাবে শেষ হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

রূপপুর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম জ্বালানি ইতোমধ্যে লোড করা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে অধিক সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

 

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেই হবে না, সঞ্চালন ব্যবস্থাকেও একই সঙ্গে সক্ষম করতে হবে। এ কারণে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রিডে বিদ্যুৎ গ্রহণ, সঞ্চালন ও ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। সামান্য ত্রুটিও যাতে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি না করে, সে জন্য গ্রিড অবকাঠামোর সক্ষমতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের ৪০০ কেভি সঞ্চালন অবকাঠামোর কমিশনিং কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে কেন্দ্রটির পূর্ণ উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে নেওয়ার জন্য আরও কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর একটি ইউনিট প্রায় ১৮ মাস ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।

পরবর্তী সময়ে জ্বালানি পুনরায় ভরানো এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি ইউনিট নির্দিষ্ট সময় বন্ধ রাখতে হতে পারে। ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপপুর দীর্ঘমেয়াদি একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দেশে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রস্তুতি সরাসরি সম্পর্কিত। তাই পরীক্ষামূলক উৎপাদনের আগে গ্রিডের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের চূড়ান্ত মূল্য এখনও নির্ধারিত হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বা পিপিএ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের হিসাবে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম কয়েক টাকার মধ্যে রাখার একটি ধারণা থাকলেও প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দাম পরিবর্তিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আলোচনা রয়েছে।

 

রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও যুক্ত। প্রকল্পের কিছু লেনদেনে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থার জটিলতার প্রভাব পড়েছে বলে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছে।

তাদের মতে, সময়মতো বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বাভাবিক গতি কিছু ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক উৎপাদনের প্রস্তুতি বর্তমানে এগিয়ে চলছে।

 

সবশেষ পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং জাতীয় গ্রিডের প্রস্তুতি সন্তোষজনক হলে সেপ্টেম্বরেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের এই সক্ষমতা কাজে লাগাতে জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


Side banner

জাতীয় বিভাগের আরো খবর

Link copied!