সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা বিসিক শিল্প পার্ক দেশের একটি অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল স্থাপিত হয়েছে।
শিল্প পার্কে প্রায় এক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠীর শিল্প করপোরেশন বিসিক শিল্প পার্কে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ ভুমিকা রাখবে।
সিরাজগঞ্জে সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নে যমুনা নদীর পুর্ব পাড়ে শিল্প পার্কটি অবস্থিত।
১২০০ বিঘা এলাকা নিয়ে গড়ে উঠা শিল্প পার্কে ৮২৯ টি শিল্পপ্লট রয়েছে। ৭১৯ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দে নির্মিত প্রকল্পটি দেশের বৃহত্তর শিল্প পার্ক ।
২০১০ সালের ৩১ আগষ্ঠ একনেক সভায় এই প্রকল্পের মৃল প্রস্তাব অনুমোদিত হয় এবং সরকারের শিল্প মন্ত্রনালয়ের অধীনে এটি হাতে নেওয়া হয়। ২০১৫ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে। যমুনা নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে বিসিক শিল্প পার্কটি চালু হলে এলাকার মানুষের বেকারত্বের দ্বার উন্মোচন হবে।
সিরাজগঞ্জ যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত
বিসিক শিল্প পার্কে প্রথম পর্যায়ে কাইজার নীট ওয়্যার লিমিটেড, আইরিশ ফেব্রিক্স লিমিটেড, আইরিন ফ্যাশন লিমিটেড, পদ্মা এগ্রো স্প্রেয়ার্স কোম্পানী লিমিটেড, রেমো কেমিক্যাল লিমিটেড, কাজী ফার্মস লিমিটেড, জিলানী ওয়েল মিল স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রাথমিক বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়।
সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কে বিভিন্ন ধাপে মোট ১৩০ টি প্রতিষ্ঠানের অনুকৃলে ২৬৪ টিসহ বেশ কিছু প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠীর শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এর
১০ হাজার বর্গফুট থেকে শুরু করে ২৬ হাজার ৫ শত বর্গ ফুটের বিভিন্ন আকারে প্লটগুলোর দাম ধরা হয়েছে প্রতি শতাংশ ৩ লাখ টাকা।
রেল ও সড়ক যোগাযোগ সুবিধার কারনে শিল্প পার্কের প্লটের চাহিদা বেশী হলেও চীনা উদ্দ্যেক্তাদের জন্য সাড়ে ৫ শত প্লট বরাদ্দ হয়নি এখনো।
বাংলাদেশ ও চীনা কোম্পানী কাজ শুরু করলে প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়।
নতুন শিল্পদ্যোগকে সম্প্রসারন ও উন্নয়ন তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করে।
উন্নত রাস্তাঘাট পানি বিদ্যুৎ গ্যাস ইত্যাদি সুবিধা সম্বলিত শিল্প নগরী শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে উন্নত প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় নতুন নতুন উদ্যোক্তারা প্লট বরাদ্দ নিয়ে রেখেছেন।প্লট বরাদ্দ নিলেও প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মান কাজ শুরু হয়নি এখনো ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিক এর একজন কর্মকর্তা জানান -প্লট বরাদ্দ নেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে স্থাপনা
নির্মান এর কথা থাকলেও উদ্যোক্তারা সেটা মানছে না । এতে বিসিক শিল্প পার্কের শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মানের দৃশ্যমান স্থাপনার কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
সদর থানা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজ এর পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ একাব্বর আলী বলেন- আমি একটা প্লট বরাদ্দ নিয়েছি। প্লটে মাটি না থাকায় প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা নির্মান করা সম্ভব হচ্ছে না। মাটি ভরাটের কাজ শেষ হলে কারখানার স্থাপনার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্পপার্কের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক জাফর বায়েজিদ বলেন- বিসিক শিল্পপার্ক উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে শিল্পায়নে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে।এখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। লাখ লাখ বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
আপনার মতামত লিখুন :